ঈদে পর্যটক ঢলের অপেক্ষায় রাঙামাটি: বুকিংয়ে ব্যস্ত হোটেল-রিসোর্ট, প্রস্তুত পর্যটন কেন্দ্রগুলো
![]()
নিউজ ডেস্ক
হ্রদ, পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা পার্বত্য জেলা রাঙামাটি আবারও প্রস্তুত হচ্ছে ঈদুল আজহার পর্যটক ঢলকে স্বাগত জানাতে। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে দেশের এই নৈসর্গিক জেলা। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবার টানা ছুটির সুযোগে পর্যটকের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইতোমধ্যে শহরের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ব্যাপক বুকিং শুরু হয়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাঙামাটি শহরের আবাসিক হোটেল ও মোটেলের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। একইভাবে সরকারি পর্যটন মোটেলেরও ৭০ শতাংশ কক্ষ সংরক্ষিত হয়েছে। পাহাড় ও মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালির রিসোর্ট ও কটেজগুলোর অধিকাংশ কক্ষও বুকিং হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন। পর্যটকদের কাছে রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝর্ণা, কাপ্তাই হ্রদে বোট ভ্রমণ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধি, পুলিশের পলওয়েল পার্ক, আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের পাহাড়ি দৃশ্য এবং ভূস্বর্গখ্যাত সাজেক ভ্যালি।
সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য আরও মোহনীয় হয়ে উঠেছে। বর্ষার ছোঁয়ায় পাহাড়ি ঝরণাগুলোও ফিরে পাচ্ছে তাদের প্রাণচাঞ্চল্য। ফলে প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের আগ্রহ এবার আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক করতে কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী পর্যটকবাহী বোটগুলো সংস্কার ও প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় টেক্সটাইল মার্কেট, হস্তশিল্পের দোকান এবং পর্যটননির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছে।
হোটেল স্কোয়ার পার্কের মালিক মো. নেয়াজ উদ্দিন বলেন, “এবার ঈদের ছুটিতে আমাদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি কক্ষগুলোও পূর্ণ হয়ে যাবে।”
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ জানান, “সাজেকে বর্তমানে ৯৮টি কটেজ রয়েছে, যেখানে প্রায় দুই হাজারের বেশি পর্যটক অবস্থান করতে পারেন। ঈদ উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে পর্যটকদের আগেভাগেই রুম বুকিং দিয়ে আসার অনুরোধ করছি।”

রাঙামাটি রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুবেধ দেওয়ান বলেন, “আমাদের বার্গি লেক ভ্যালিতে ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। অন্যান্য রিসোর্টেও ভালো বুকিং চলছে। আশা করছি এবারের ঈদে পর্যটকের সমাগম খুব ভালো হবে।”
অন্যদিকে রাঙামাটি সরকারি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, “ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট নতুন করে সাজানো হয়েছে। ঈদের পরদিন থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। এবার রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক রাঙামাটিতে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের এই পর্যটক সমাগম শুধু বিনোদন নয়, বরং রাঙামাটির স্থানীয় অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে। হোটেল-রিসোর্ট, পরিবহন, হস্তশিল্প, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় নতুন গতি ফিরবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।