ঈদের আগে মন্দায় কক্সবাজারের পর্যটন, হতাশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”
![]()
নিউজ ডেস্ক
ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শুরু হলেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেই কোন ভিড়। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ সবখানেই পর্যটকের উপস্থিতি খুবই কম। ফাঁকা পড়ে আছে সৈকতপাড়ের অনেক হোটেল, অলস সময় কাটাচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত সৈকতে ছিল না তেমন পর্যটকের উপস্থিতি। হাতে গোনা কয়েকজনকে সৈকত ধরে হাঁটতে দেখা গেছে। পর্যটকদের জন্য বসানো শত শত কিটকট (চেয়ার-ছাতা) ফাঁকাই পড়ে ছিল। সৈকতে নামার মুখের অনেক দোকানপাটও ছিল বন্ধ। আর পর্যটকদের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করা ভ্রাম্যমাণ আলোকচিত্রীরা গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন পর্যটকের আশায়। লাবণী পয়েন্টে শামুক-ঝিনুক, শুঁটকি ও বার্মিজ পণ্যের দোকানগুলোতেও ছিল ক্রেতাশূন্য।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, তীব্র গরম, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগের কারণে ভ্রমণপ্রবণতা কমে গেছে। ফলে ঈদকে কেন্দ্র করেও এবার প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না।
সৈকতে নেই কোলাহল, দুশ্চিন্তায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
প্রতিবছর এই সময়ে কক্সবাজারে সাধারণত পর্যটকদের ভিড় থাকে। কিন্তু এবার সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে দেখা গেছে অনেকটাই নীরব পরিবেশ। পর্যটক কমে যাওয়ায় সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম সংকটে।
সৈকতের ঘোড়ার মালিক ও ফটোগ্রাফার থেকে শুরু করে জেট স্কি চালক এবং কিটকট ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটক না থাকায় তাদের অনেকেই সংসার চালাতে ধার-দেনার ওপর নির্ভর করছেন।
ঘোড়ার মালিক ফরিদা বেগম জানান, অন্য বছর এই সময়ে সৈকতে পা ফেলার জায়গা থাকত না। সকাল গড়াতেই হাজার হাজার পর্যটকে মুখর হয়ে উঠত পুরো এলাকা। কিন্তু এবার দুপুর পর্যন্ত সৈকতে তেমন মানুষের দেখা মিলছে না।
সৈকতে ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করা আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় থাকলেও এমন খারাপ মৌসুম আগে দেখেননি। পর্যটক না থাকায় দিনের পর দিন আয় ছাড়াই সময় কাটছে তার।
একই হতাশা কিটকট ব্যবসায়ীদের মাঝেও। সৈকতের কিটকট ব্যবসায়ী এহসান উল্লাহ বলেন, বছরের এই সময়টিই তাদের প্রধান আয়ের মৌসুম। কিন্তু এবার ব্যবসা না থাকায় কর্মচারীদের বেতন দেওয়া থেকে শুরু করে সংসারের খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ঠিক এভাবে জেট স্কি, বিচ বাইক চালকদের অবস্থাও একই। তারা জানান, পর্যটক সংকটে আগের মতো প্রতিদিনের আয় নেই। বাধ্য হয়ে ধার করে পরিবার চালাতে হচ্ছে তাদের।
৬৮ শতাংশ হোটেল কক্ষ বুকিং
হোটেল ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের আগে পর্যটক না থাকলেও ঈদের ছুটিতে এপর্যন্ত ৬৮ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। ঈদের পরে পর্যটক আসতে শুরু করবে।
হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদ উপলক্ষে হোটেল মোটেল কক্ষে কোন ছাড় দেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে ৬৮ শতাংশ বুকিং হয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যে এটি আরো বাড়বে। কক্সবাজারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা জোরদার
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কক্সবাজার শহরের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের পাশাপাশি ইনানী, হিমছড়ি ও পাটোয়ারটেক এলাকাতেও সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।”
তিনি জানান, নিয়মিত টহল টিমের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল টিমও মাঠে কাজ করছে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবেন ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, “পর্যটকরা আনন্দময় ভ্রমণের জন্য কক্সবাজারে আসেন। তাই অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায় কিংবা খাবারের দাম বাড়িয়ে কোনো ধরনের হয়রানি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ লক্ষ্যে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে সক্রিয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।