পশ্চিমবঙ্গে ভাঙনের মুখে মমতার দল তৃণমূল, সব কমিটি বাতিল

পশ্চিমবঙ্গে ভাঙনের মুখে মমতার দল তৃণমূল, সব কমিটি বাতিল

পশ্চিমবঙ্গে ভাঙনের মুখে মমতার দল তৃণমূল, সব কমিটি বাতিল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর এবার ভাঙনের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। এরই মধ্যে রাজ্যের সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচালনা পর্ষদ।

দলের নির্দেশ অমান্য করে বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন দিতে প্রস্তুত দলটির প্রায় ৬০ জন বিধায়ক। এ সংক্রান্ত চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হয়েছেন ঋতব্রত। তার সমর্থনে বিধানসভায় আসেন তৃণমূলের অনেক বিধায়ক।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠিও দিয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। চিঠিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী নেতা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলের সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিধানসভায় দলনেতা ঠিক করা নিয়ে দলটির অন্তর্কোন্দল এবার প্রকাশ্যে।

তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন মিলে বৈঠক করে তাদের দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতকে নির্বাচিত করার পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ও মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে নির্বাচিত করেন। একই সঙ্গে আখতারুজ্জামানের ডেপুটি হিসেবে বিধায়ক জাভেদ খান, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহার নাম ঠিক হয়েছে। স্পিকার বিদ্রোহীদের এই আবেদন গ্রহণ করেছেন।

ঋতব্রত সফল হলে বিধানসভায় এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীই হয়তো ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে যাওয়ার খবর সত্যি হওয়ার পথে।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে ভরাডুবি হয় দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের। দলটি ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ৮০টি আসন পায়। দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটি আসনে হেরে যাওয়ায় বিধানসভায় যাওয়ার সুযোগ হারান।

এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের কাছে এক চিঠি দিয়ে জানান, এবার বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতার আসনে বসবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

কিন্তু অভিষেকের সেই চিঠিতে স্বাক্ষরদানকরী হিসেবে বিধায়কদের যাদের নাম দেওয়া হয়, তাদের অনেকেই দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বহু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করে শোভনদেবকে বিরোধী নেতা বানানোর প্রস্তাব স্পিকারকে দিয়েছেন।

এরপর মমতার নির্দেশে গত ১ জুন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে, গত মঙ্গলবার কলকাতায় এক সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে বিজেপি তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে তৃণমূলকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। আমরা লড়াই করব।”

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed