গুজরাটে ৩৬২ কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’কে আটকের দাবি পুলিশের
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের গুজরাট রাজ্যে ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট’ নামে এক ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩৬২ জন কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ নাগরিককে গ্রেফতার এবং আরও ৭ শতাধিক সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। গুজরাট সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাটের বিভিন্ন শহর ও জেলাজুড়ে একযোগে চালানো এই রাজ্যব্যাপী অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১০৩ জন পুরুষ, ১৮৮ জন নারী এবং ৭১ জন শিশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে আহমেদাবাদ শহরে (১৫৫ জন)। এছাড়া সুরাট, আহমেদাবাদ গ্রামীণ, পূর্ব কচ্ছ-গান্ধীধাম এবং ভরুচ থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষকে আটক করা হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাটের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই অভিযানের নীলনকশা তৈরি করা হয়। পুলিশের দাবি, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই গুজরাটে প্রবেশ করে বসবাস করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এই ‘ক্র্যাকডাউন’ শুরু হয়।
আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জিএস মালিক জানান, ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপসহ (এসওজি) পুলিশের ৩০টিরও বেশি বিশেষ দল এই অভিযানে অংশ নেয়। কোনো সন্দেহভাজন যেন রাজ্য ছেড়ে পালাতে না পারে, সেজন্য শহরের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, মহাসড়ক এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে একযোগে কড়া চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল।
তদন্তকারীদের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস আরও দাবি করেছে, আটককৃতদের অনেকেই দুই থেকে চার বছর বা তারও আগে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করছে পুলিশ। স্থানীয় কিছু দালাল চক্রের সহায়তায় তারা ভারতের স্থানীয় নথিপত্র এবং পরবর্তীতে ভুয়া আধার ও ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করেছিল। অভিযান চলাকালীন এমন বেশ কিছু ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং এর পেছনে থাকা মানবপাচার ও জালিয়াত চক্রের সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
গুজরাট পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) কেএলএন রাও জানিয়েছেন, ‘সাইবার সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’-এর সহায়তায় একটি বিশেষ টেলিকম ডাটা বিশ্লেষণ করে এই অভিযান চালানো হয়। বাংলাদেশি মোবাইল নম্বরের সাথে যোগাযোগ রয়েছে—এমন প্রায় ৬,২০০টি ভারতীয় মোবাইল নম্বরের একটি তালিকা তৈরি করে এই বিশাল ডাটাবেস প্রস্তুত করা হয়েছিল। এই তালিকার সূত্র ধরেই মাঠপর্যায়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গুজরাট সরকারের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যারা এই কথিত অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়, কর্মসংস্থান বা ভুয়া নথিপত্র তৈরিতে সাহায্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে, আটককৃতদের আইনগত প্রক্রিয়া মেনে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।