আজাদ কাশ্মীরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ৭

আজাদ কাশ্মীরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ৭

আজাদ কাশ্মীরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ৭
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের (এজেকে) রাওয়ালকোটে গত রোববার (৭ জুন) পুলিশ ও সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার (৮ জুন) এক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

এজেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ২৩ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। এরপর রোববার গভীর রাতে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। আজাদ কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে গত কয়েকদিন ধরে সহিংস বিক্ষোভ চলছে। এর আগের দিন তথা গত শনিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত চারজন সদস্য নিহত হন।

গত শুক্রবার (৫ জুন) রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কর্মকর্তাদের দাবি, রোববার বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালাকোটের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ হামলা চালিয়েছিল।

প্রথমে নিহত ব্যবসায়ীর পরিবার শনিবার (৬ জুন) জানাজা ও দাফনের ঘোষণা দিলেও পরে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মরদেহ আবার সিএমএইচে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানে ময়নাতদন্ত করা হবে। ফলে দাফন রোববার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ সময় সিএমএইচের বাইরে শত শত মানুষ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা তাদের মুখোমুখি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি।

এদিকে নিহত ব্যক্তির পরিবার ঘোষণা দেয়, স্বরাষ্ট্র বিভাগের জারি করা জেএএসি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আজাদ কাশ্মীরে উত্তেজনা বেড়েছে। আঞ্চলিক সরকার জেএএসি-কে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সংগঠনটি এজেকে আইনসভায় সংরক্ষিত ১২টি শরণার্থী আসন বাতিলের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

এই আসনগুলো মূলত ১৯৪৭ সালের পর ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে চলে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। জেএএসি’র অভিযোগ, পাকিস্তানের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই এসব আসন ব্যবহার করে মুজাফফরাবাদের সরকার গঠনে প্রভাব বিস্তার করে।

গত শুক্রবার এজেকে সরকার জেএএসি-কে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। ৯ জুনের নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির কয়েক দিন আগে জারি করা ওই ঘোষণায় বলা হয়, সংগঠনটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত’ এবং ‘রাজ্যের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর’ কার্যকলাপ পরিচালনা করছে।

শনিবার থেকে কর্তৃপক্ষ জেএএসি’র বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনটির বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া এজেকে পুলিশ জেএএসি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও সিলগালা করে দিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে।

এদিকে মোবাইল ডাটা সেবা বন্ধ থাকায় অঞ্চলটিতে তথ্যপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ ২০ জুন পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের এজেকে সফর স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসলামাবাদ থেকেও অতিরিক্ত ফেডারেল আধাসামরিক বাহিনী পাঠানো হয়েছে, যাতে চাপের মুখে থাকা স্থানীয় পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করা যায়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *