বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে না, ভিডিওটি নেপালের
![]()
নিউজ ডেস্ক
লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং এটি নিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে—এমন একটি দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
‘sam tv’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৩০ মে শেয়ার করা ভিডিওটি আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট, এবং এটিই সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি আজ ১৯ জুন বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। পোস্টটিতে ১ হাজার ৯০০ রিয়্যাকশন, ৬৪ কমেন্ট ও ১ হাজার ৩০০ শেয়ার রয়েছে।
ভিডিওটি শেয়ার করে ‘Md Yousuf Ali Yousuf’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আর একটি রোহিঙ্গাও যেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে। আগে আমাদের দেশ, পরে অন্য কিছু। দেশ নিয়ে কোনো প্রেম-প্রীতি বা ভালোবাসা চলবে না।’
একই ভিডিও শেয়ার করে ‘Nur Islam Sk’ নামের একটি পেজ থেকে হিন্দি ভাষায় দাবি করা হয়, ‘মুসলমানদের সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই তারা বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতীয় মুসলমানদের ঘরবাড়ি, ভবন ও মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তাই এই দেশ মুসলমানদের জন্য হারাম। জাগো মুসলমান, জাগো। ঈমান আনো। আল্লাহর নামে কোরবানি হও, জান্নাত অর্জন করো।’
শেয়ার করা এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী ভিডিওটির দাবিকে সত্য মনে করলেও একজন কমেন্ট করেছেন— ভিডিওটি নেপালের।
অনুসন্ধান
আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ে শুরুতে ভাইরাল ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, একটি দুর্গম পাহাড়ি ঢালে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম, তারা দলবদ্ধভাবে খাড়া পাথুরে ঢাল বেয়ে উঠছে বা নামছে। অনেকের হাতে লম্বা লাঠি এবং পিঠে ব্যাগ বা মালপত্র। তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় ধারণ করা—সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ভিডিওতে বা পোস্টে নেই। এ ছাড়া দেশের মূলধারার কোনো গণমাধ্যমেও সম্প্রতি এমন কোনো ঘটনার তথ্য মেলেনি।
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘lajimbudha’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ‘yarsagumba seekers crossing the mountain’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই ২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিওটির প্রথম ২২ সেকেন্ডের দৃশ্যের সঙ্গে সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়ানো ভাইরাল ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। ওই ভিডিও থেকে জানা যায, এটি মূলত নেপালের স্থানীয় অধিবাসীদের ‘ইয়ারসাগুম্বা’ (এক ধরনের বিরল ও মূল্যবান ঔষধি ভেষজ ছত্রাক) সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হিমালয়ের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের দিকে যাত্রার দৃশ্য।
ইউটিউব চ্যানেলের বিবরণ ও অন্যান্য ভিডিও থেকে জানা যায়, চ্যানেলটির মালিক নেপালের বাসিন্দা, তিনি হিমালয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও চ্যানেলটিতে একই ভিডিও শেয়ার করা হয়।
নেপালে ইয়ারসাগুম্বা সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে নেপালি গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নেপালে প্রতি বছর বার্ষিক ইয়ারসাগুম্বা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হলে হাজার হাজার মানুষ মুগু ও ডলপা জেলার ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার মিটার উচ্চতার দুর্গম পার্বত্য এলাকায় ছুটে যান। এই বিরল ছত্রাকজাতীয় ভেষজটি আন্তর্জাতিক বাজারে (বিশেষ করে চীনে) অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হয় এবং এটি সংগ্রহের মাধ্যমে স্থানীয় বহু পরিবার তাদের বছরের সিংহভাগ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। পুলিশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ডলপা অঞ্চলেই এক এক মৌসুমে ৪৩ হাজারের বেশি সংগ্রাহকের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়।
সিদ্ধান্ত
ভিডিওটি বাংলাদেশ সীমান্ত বা রোহিঙ্গাদের চলাচলের নয়। বরং এটি নেপালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ইয়ারসাগুম্বা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হিমালয়ের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে যাত্রার দৃশ্য।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।