বাংলাদেশে হামাসের কথিত উপস্থিতি নিয়ে ভারত-আ.লীগের অপপ্রচার

বাংলাদেশে হামাসের কথিত উপস্থিতি নিয়ে ভারত-আ.লীগের অপপ্রচার

বাংলাদেশে হামাসের কথিত উপস্থিতি নিয়ে ভারত-আ.লীগের অপপ্রচার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলন হামাসের বাংলাদেশে তৎপরতা রয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে এখন জোরালো প্রচার চলছে। এতে যোগ দিয়েছেন আওয়ামীপন্থি বাংলাদেশি সাংবাদিকরা। ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের ঘনিষ্ঠ থিংক ট্যাংক উসানাস ফাউন্ডেশনের ওয়েব সাইটে গত ১২ মে এ সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়।

হামাস বিয়ন্ড ওয়েস্ট এশিয়া : হোয়াই ইট ইজ গ্রোয়িং লিংক ইন পাকিস্তান অ্যান্ড বাংলাদেশ ম্যাটার ফর ইনডিয়া শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর, বাংলাদেশের একটি ইসলামপন্থি সংগঠন ‘আল মারকাজুল ইসলামী’ আয়োজিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হামাস নেতা ড. খালেদ কাদ্দুমি এবং হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান খালেদ মেশাল যোগ দেন। এই সভায় পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়।

এই নিবন্ধ প্রকাশের মাসখানেক পর ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতা চলছে। যা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে চরমপন্থি প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিজেপি নিয়ন্ত্রিত দিল্লিভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর আদিত্য রাজ কাউলের সঙ্গে গত বুধবার সাক্ষাৎকারে তিনি এসব দাবি করেন।

হিন্দুত্ববাদীদের ঘনিষ্ঠ থিংক ট্যাংক ও এনডিটিভির খবরের ভিত্তিতে আওয়ামপন্থি সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরী তার ইউটিউব চ্যানেলে হামাস নেতাদের বাংলাদেশ সফরের তথ্য প্রচার করেন। তবে তিনি এই খবরের কোনো সূত্র উল্লেখ করেননি। এমনকি উসানাস ফাউন্ডেশন প্রকাশিত নিবন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়নি। এই নিবন্ধের লেখকের কোনো নাম নেই। তবে তিনি ভিডিওটির শিরোনাম করেন, ইসরাইলের বিস্ফোরক দাবি! হামাস নাকি বাংলাদেশে? যদিও বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে হামাস বা ফিলিস্তিনের কোনো শীর্ষ নেতা সফর করেছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান গত বছরের নভেম্বর মাসে খতমে নবুয়ত সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকা সফর করেন। তাকে স্বাগত জানান বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারা।

ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার এনডিটিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন এবং কথিত চরমপন্থা মোকাবিলায় ইসলামাবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, হামাস ইসরাইলে ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের সম্ভাব্য তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছে ইসরাইল। কিছু রিপোর্ট প্রকাশ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, জনসমক্ষের বাইরেও আরো কিছু কার্যক্রম থাকতে পারে। তবে ভারতের নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত খালেদ মিশাল বা খালেদ কাদ্দুমির সফর নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

অপরদিকে ভারতীয় থিংক ট্যাংক উসানাস ফাউন্ডেশনের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত নিবন্ধে বাংলাদেশে হামাসের প্রভাব বাড়ার প্রমাণ হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে হামাসের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়াহ এবং হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। কাতারের দোহায় নিহত হামাস নেতা হানিয়াহ-এর জানাজায় হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল। ওই জানাজায় বাংলাদেশ, ভারত ও সুদানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে, ইসলামী ছাত্রশিবির নিহত হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের জন্য একটি গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে। ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়- যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

এই নিবন্ধে বলা হয়, জানাজার আয়োজন করা হামাসের অন্যতম প্রধান কৌশলের অংশ। এটি কেবল সংহতি ও আদর্শিক উদ্দেশ্যে জনসমাগম তৈরি করতেই নয়, বরং একটি যৌথ আত্মপরিচয়ের বোধ জাগিয়ে তুলতেও ভূমিকা রাখে—যা আল-আকসা মসজিদের রক্ষক হিসেবে তাদের ভাবমূর্তিকে আরো শক্তিশালী করে।

নিবন্ধে আরো বলা হয়, ফিলিস্তিনপন্থি সমাবেশের সময় ইসরাইলবিরোধী এবং ভারতবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বাড়তে থাকা এই হামাসপন্থি মনোভাব ভারতের জন্য উদ্বেগজনক। এর মাধ্যমে সশস্ত্র যোদ্ধাদের নিয়োগের ক্ষেত্র হিসাবে কাজ করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের পরিচালিত কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ন্ত্রিত থিংক ট্যাংকের ভুয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা একই সূত্রে গাঁথা। এই সূত্রে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকরা ভারত-ইসরাইলি যৌথ প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

–আমার দেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *