কলকাতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ৩ যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করলেন মোদি

কলকাতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ৩ যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করলেন মোদি

কলকাতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ৩ যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করলেন মোদি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে আজ রোববার দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ভারতের তিনটি যুদ্ধজাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই আয়োজনকে ভারতের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধ সক্ষমতা, সমুদ্র জরিপ এবং সাবমেরিনবিরোধী অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করবে এই তিন নৌযান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কমিশন হওয়া তিনটি নৌযান হলো—স্টেলথ ফ্রিগেট দুনাগিরি, সার্ভে ভেসেল (লার্জ) সংশোধক এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট আগ্রয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর ভাষ্য, এই তিনটি জাহাজ যথাক্রমে সামুদ্রিক যুদ্ধ পরিচালনা, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং সাবমেরিনবিরোধী অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা বহন করছে।

অনুষ্ঠানের আগে ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভারতীয় নৌবাহিনী দুনাগিরিকে শক্তিশালী ও আধুনিক যুদ্ধজাহাজ হিসেবে তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, দুনাগিরি নির্ভুলতা, শক্তি ও ক্ষিপ্রতার সমন্বয়ে নির্মিত একটি যুদ্ধজাহাজ, যা অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর ব্যবস্থায় সজ্জিত। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং টানা অভিযান পরিচালনার উপযোগী করে এটি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে সংযোজন করা হয়েছে দেশীয় স্টেলথ প্রযুক্তি। নৌবাহিনীর ভাষায়, বহুমাত্রিক আধিপত্য ও প্রাণঘাতী সক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে দুনাগিরি।

দুনাগিরিতে উন্নত অস্ত্র ও সেন্সর ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে আছে ব্রহ্মোস সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র এবং মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (এমআর-স্যাম) ব্যবস্থা। ভারতীয় নৌবাহিনীর মতে, এসব প্রযুক্তি তাদের যুদ্ধ সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে সংশোধক—যা বৃহৎ সার্ভে ভেসেল সিরিজের চতুর্থ ইউনিট—উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্র অঞ্চলে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনার জন্য নির্মিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য সমুদ্রবিজ্ঞান ও ভূ-পদার্থবিষয়ক তথ্য সংগ্রহেও এটি ব্যবহার করা হবে। এতে উন্নত জরিপ প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (এইউভি) এবং রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল (আরওভি)।

আগ্রয় হলো অর্ণালা শ্রেণির অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফটের চতুর্থ ইউনিট। এতে সংযোজন করা হয়েছে হালকা টর্পেডো, দেশীয় রকেট লঞ্চার এবং অগভীর পানিতে পানির নিচের হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলার জন্য বিশেষ সোনার ব্যবস্থা। উপকূলীয় ও অগভীর জলসীমায় সাবমেরিনবিরোধী অভিযান পরিচালনায় এই নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘ভারত আর শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার দেশ হয়ে থাকতে চায় না এবং দেশটির সামরিক শক্তি বিশ্বের বাজারে পরিণত হতে পারে না।’ মোদি বলেন, ‘এই তিনটি জাহাজ ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্পের প্রতীক। এগুলো ভারতে তৈরি হয়েছে, ভারতে নকশা করা হয়েছে। এগুলো ভারতীয় শিল্পের প্রতিভা, ভারতীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা এবং ভারতীয় শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। এটাই নতুন ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ ভারত প্রতিরক্ষা খাতে কেবল একজন ক্রেতা হয়ে থাকতে চায় না। আমাদের সামরিক শক্তি বিশ্বের বাজারে পরিণত হতে পারে না। বিশ্বের বাজার হয়ে ওঠাই আমাদের শক্তির সংজ্ঞা নয়। আমাদের শক্তির সংজ্ঞা আত্মনির্ভরতায়।’ সামুদ্রিক শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশের সামুদ্রিক শক্তি শক্তিশালী, সেই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবও শক্তিশালী হয়। ভারত এই বাস্তবতা ভালোভাবে বোঝে। ভারত সেই লক্ষ্যেই নিজেকে প্রস্তুত করছে। আজকের দিন আমাদের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রমাণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক বছর আগে যখন আমরা আইএনএস বিক্রান্ত জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছিলাম, তখন ভারত তার সামুদ্রিক শক্তির নতুন অধ্যায়ের ঘোষণা দিয়েছিল। সেটি ছিল বিশ্বের কাছে আমাদের শক্তির প্রকাশ। আইএনএস বিক্রান্ত থেকে আজকের যাত্রা শুধু নতুন যুদ্ধজাহাজের যাত্রা নয়, এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরতারও যাত্রা। আজ আইএনএস আগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধক সেই যাত্রায় নতুন গতি যোগ করছে।’

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *