কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সংঘর্ষ: সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বাংলাদেশ সুইডেন সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের (বিএসপিআই) ছাত্রাবাসে আঞ্চলিক ফোরাম ও মোবাইলে দেওয়া স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিএসপিআইয়ের ছাত্রাবাসে অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল নিরাপদ আবাসন ও পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা হলেও সেখানে সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া কিংবা তাদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
যৌথ বিবৃতিতে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে সর্বজনগ্রাহ্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা; সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া; আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার কর্তৃপক্ষের বহন; এবং ছাত্রাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা।
এ ছাড়া তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হল ও ক্যাম্পাসে কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার এবং অপ্রীতিকর ঘটনা বন্ধে সব ধরনের আঞ্চলিক ফোরামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা সবসময় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের পক্ষে। অনতিবিলম্বে দাবিগুলো মেনে নিয়ে সঠিক বিচার নিশ্চিত করা না হলে নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তার স্বার্থে শান্তিপূর্ণভাবে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শুক্রবার রাতে বিএসপিআইয়ের ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে নয়জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। অপর চারজন শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর বিএসপিআই কর্তৃপক্ষ অটোমোবাইল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিভাগীয়ভাবে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
খবর পেয়ে কাপ্তাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চলমান পর্ব সমাপনী পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ক্যাম্পাসে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।