খাগড়াছড়িতে সেনা অভিযানে ইউপিডিএফের পোস্ট পরিচালক আটক, অস্ত্র-চাঁদার রশিদসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি সেনা জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে অস্ত্র, চাঁদাবাজির রশিদ, মাসিক চাঁদা আদায়ের বই, সাংগঠনিক নথিপত্র, অন্যান্য সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ অভিযান সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন এবং পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল ইসমাইল সামস আজিজি-এর নেতৃত্বে দুইটি আভিযানিক দল গুইমারা উপজেলার পাইনংপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী ঝিমিত চাকমাকে (৪০) আটক করা হয়।

আটক ঝিমিত চাকমার বাড়ি গুইমারা উপজেলার কুকিছড়া গ্রামে। তিনি ইউপিডিএফের প্রধান পোস্ট পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযান চলাকালে তার আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় ২টি পুরাতন লোকাল পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন এবং ২টি খালি কার্টুজ। এছাড়া সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও নথিপত্র জব্দ করা হয়।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি কালার প্রিন্টার, একটি লেমিনেটিং মেশিন, একটি সোলার ইনভার্টার, ৭০টি বিভিন্ন ধরনের বই, ২টি প্রিন্টার কালি, ৪২টি মাসিক চাঁদা আদায়ের বই, ১৪৫টি চাঁদা আদায়ের রশিদ, বিভিন্ন ধরনের চিঠিপত্র, পোস্টারিংয়ের কাগজপত্র, আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণীর ১ হাজারটি ছক বই, ৫টি পেনাফিলাক, একটি দলীয় পতাকা, ৮টি দলীয় আর্ম ব্যান্ড, বিভিন্ন ধরনের ফাইল, ২টি সিম্ফনি বাটন মোবাইল ফোন, একটি ট্রাভেল তাবু, ৪টি প্লাস্টিক ড্রাম, বিভিন্ন দলিল, ৩টি ভারতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ৪টি দলীয় ক্যাপ, একটি চশমা, পার্টি সদস্যদের করণীয় নির্দেশনা সংবলিত ৩টি নথি, ৪টি কম্বল এবং পারিবারিক ছবি।
সেনাবাহিনী জানায়, অভিযান শেষে আটককৃত ঝিমিত চাকমাকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গুইমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি, অস্ত্রের দাপট এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক দুর্বল করার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়াচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকলে পাহাড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের পরিবেশ আরও সুসংহত হবে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব অভিযানের ফলে সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।