ভারতের উত্তরপ্রদেশে ঘরে ‘গোমাংস’ রান্নার অভিযোগ: জেলহাজতে ৩ মুসলিম নারী
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ঘরে গোমাংস নিয়ে আসা এবং তা রান্না করার অভিযোগে তিন মুসলিম নারীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে দেশটির পুলিশ। গত বুধবার (২৪ জুন) রাজ্যটির কৌশাম্বী জেলার সরাই আকিল থানা এলাকার পনারা গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত ‘গো-বধ প্রতিরোধ আইন’-এর আওতায় মামলা দিয়ে তাঁদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— শামা পারভীন, শায়েস্তা এবং ফাতিমা। এদিকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশের দাবি, এক তথ্যদাতার কাছ থেকে খবর আসে যে পনারা গোপালপুর গ্রামের একটি বাড়িতে গোমাংস রান্না করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে আকস্মিক অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চারজন পুরুষ সদস্য গ্রামের সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যান। তবে ঘরে থাকা তিন নারীকে মহিলা পুলিশের সহায়তায় আটক করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী দল জানায়, তল্লাশি চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে প্রায় এক কেজি রান্না করা মাংস এবং এক কেজি কাঁচা মাংস জব্দ করা হয়েছে। তবে জব্দকৃত মাংসটি আসলেই গোমাংস কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মাংসের নমুনা ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ল্যাবের রিপোর্ট আসার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কৌশাম্বীর ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডিএসপি) অভিষেক সিং জানান, “আটককৃত নারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন যে, জব্দকৃত মাংস তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাইরে থেকে নিয়ে এসেছিলেন।”
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক পুরুষদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সাথে এই মাংস কোথা থেকে কেনা হয়েছিল এবং এর পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট আসার আগেই নারীদের গ্রেফতার ও জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।