ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে নজরদারি যুদ্ধবিমান ‘নেত্র’
![]()
নিউজ ডেস্ক
‘নেত্র’ নামের একটি নতুন যুদ্ধবিমান যুক্ত হচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও অর্থায়নের তৈরি এই যুদ্ধবিমানকে ইতোমধ্যে ‘অপারেশন ক্লিয়ারেন্স’ দিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থাৎ এটি এখন সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ বিজয়ী।
নেত্র উচ্চক্ষমতার রাডার সিস্টেমযুক্ত বিমান। মূলত শত্রুপক্ষের বিমানের ওপর নজরদারি চালানো এবং হামলা পরিচালনার সময়ে যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রন পরিচালনা করতে এ ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়। সামরিক পরিভাষায় এ ধরনের বিমানকে বলা হয় ‘এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (অ্যাওয়াক্স)।
নেত্র এমব্রয়ার ইআরজে-১৪৫ রাডার সিস্টেমে সজ্জিত। বর্তমানে ইআরজে-১৪৫ বিশ্বের সবচেয়ে আধুনি রাডার সিস্টেমগুলোর মধ্যে একটি এবং এটি বিমানে পরিবহনযোগ্য।
নেত্রকে প্রস্তুত করেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর অধীন প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডিআরডিও জানিয়েছে, এমব্রয়ার ইআরজে-১৪৫ রাডার সিস্টেম এবং ‘এসা’ সেন্সর থাকার সুবাদে ৪৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে নেত্র। বৈদ্যুতিক বুদ্ধিমত্তা (ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স) যুক্ত এই ভারতীয় অ্যাওয়াক্স যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশ থেকে সরাসরি স্থলসেনার কাছে লাইভ ডেটা পাঠাতে সক্ষম।
নেত্রতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, প্রায় একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ইসরায়েলি অ্যাওয়াক্স বিমান ফ্যালকনও। তবে ৪ কিলোমিটার পাল্লার ফ্যালকন ৩৬ ডিগ্রি ক্ষেত্র জুড়ে নজরদারিতে সক্ষম। অন্যদিকে নেত্র’র ‘নজরদারির পরিধি’ ২৪০ ডিগ্রি।
কয়েক বছর আগে প্রায় ৮,১০৭ কোটি টাকা দিয়ে ইজরায়েল থেকে তিনটি ‘ফ্যালকন’ কিনেছিল ভারত। রাশিয়ার তৈরি সামরিক পরিবহণ বিমানে আইএল-৭৬-এ বসানো এই ইজরায়েলি নজরদারি ব্যবস্থার কাজ হল, ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার জেটগুলিকে নিখুঁত ভাবে ‘লক্ষ্য’ চিহ্নিত করতে সাহায্য করা। পাশাপাশি, এগুলি শত্রুপক্ষের বিমানবাহিনীর তৎপরতার উপর নজরদারির কাজও করতে পারে। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি আস্তানায় হামলাকারী ভারতীয় বিমানবাহিনীর ১২টি মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেটকে পরিচালনা করেছিল এই ইজরায়েলি অ্যাওয়াক্স।
প্রসঙ্গত, গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ফ্যালকনের। তবে প্রকাশিত কয়েকটি রিপোর্টে দাবি, অঘোষিত ভাবে সিঁদুর অভিযানের সময় ‘নেত্র’র কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।