ভারতে রাম মন্দির থেকে চুরি করা টাকায় বাড়ি-গাড়ি-ফার্মহাউজ!
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যায় নির্মিত রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে একই পরিবারের দুই সদস্যকে ঘিরে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়ে অভিযুক্ত অনুকল্প মিশ্র গড়ে তুলেছেন বাড়ি-গাড়ি ও ফার্মহাউজ। তার ভগ্নিপতি লবকুশ মিশ্রও করছেন বিলাসী জীবনযাপন।
এই দুই ব্যক্তিকে চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, পুরো অর্থ আত্মসাতের চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন অনুকল্প মিশ্র।
তদন্তে জানা গেছে, অনুকল্প মিশ্রই তার ভগ্নিপতি লবকুশ মিশ্রকে ভক্তদের দান করা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা করার দলে নিয়োগ করান। পরে ওই দলের বিরুদ্ধেই বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
এদিকে, অনুকল্প মিশ্রের অযোধ্যার বাসাভা গ্রামে গিয়ে তার জীবনযাত্রায় নাটকীয় পরিবর্তনের একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গ্রামের অন্যান্য বাড়ির তুলনায় তার বাড়িটি সবচেয়ে বিলাসবহুল। প্রথম দেখাতেই এটি গ্রামের সবচেয়ে অভিজাত বাড়িগুলোর একটি বলে মনে হয়।
গ্রামবাসীদের দাবি, খুব বেশি দিন আগেও মিশ্র পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। কিন্তু এখন তাদের কোনো কিছুরই অভাব নেই। এছাড়া গ্রামের অনেক বাসিন্দাই অনুকল্পকে ‘ভালো মানুষ’ বলতে রাজি হননি।
অনুকল্প মিশ্রের দাদা রাজেন্দ্র প্রসাদ মিশ্র পুলিশকে জানান, অনুকল্পের বাবা একজন সম্পত্তি ব্যবসায়ী ও তিনি অন্যত্র বসবাস করেন। তিনি আরও জানান, গত ৩০ এপ্রিল অনুকল্প গ্রামে সাত দিনব্যাপী একটি জাঁকজমকপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে একজন ধর্মীয় বক্তাকেও আনা হয়েছিল।
রাজেন্দ্র প্রসাদ মিশ্র বলেন, তিনি ওই অনুষ্ঠানে অনুকল্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে রাম মন্দিরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে তখন তার কোনো ধারণা ছিল না।
ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাম মন্দির ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ছবিতে চম্পত রাইকে অনুকল্প মিশ্রের সঙ্গে দেখা গেছে। এছাড়া অযোধ্যার মেয়র ও জেলা পঞ্চায়েত সভাপতির একজন প্রতিনিধিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এত বড় আয়োজনের অর্থ কোথা থেকে এলো, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি গ্রামের উপকণ্ঠে একটি ফার্মহাউজ নির্মাণ করেছেন অনুকল্প মিশ্র। এছাড়া গত বছর তিনি অযোধ্যায় একটি বাড়িও কিনেছেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৫ লাখ রুপি।
প্রতিবেশীরা আরও জানান, আগে থেকেই একটি গাড়ি থাকলেও সম্প্রতি তিনি একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও এসইউভি বুক করার প্রক্রিয়ায় ছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অনুকল্প মিশ্র একটি ব্যাংকের আউটসোর্সিং টিমে কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর আগে তিনি রাম মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনার দলে যোগ দেন। পরে একই আউটসোর্সিং সংস্থার মাধ্যমে তার ভগ্নিপতি লবকুশ মিশ্রকেও ওই দলে নিয়োগ করান।
লবকুশ মিশ্র অযোধ্যার রুদৌলি এলাকার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। প্রতিবেশীদের দাবি, সম্প্রতি তিনি এক লাখ রুপিরও বেশি দামের একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন।
এদিকে, রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের সম্পদ, আয়ের উৎস ও আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই মামলায় অর্থের উৎস ও কোথায় কীভাবে তা ব্যয় হয়েছে, সেই মানি ট্রেইল খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।