ইউপিডিএফ, মগপার্টি ও কেএনএফের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জেএসএসের

ইউপিডিএফ, মগপার্টি ও কেএনএফের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জেএসএসের

ইউপিডিএফ, মগপার্টি ও কেএনএফের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযো জেএসএসের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারধর, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন সশস্ত্র পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)। সংগঠনটির প্রকাশিত ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়কালের অর্ধবার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে অপর সশস্ত্র সংগঠন প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ, মারমা লিবারেশন পার্টি (এমএলপি) এবং নাথান বমের নেতৃত্বাধীন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে পিসিজেএসএস দাবি করে, বছরের প্রথম ছয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে উল্লিখিত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দ্বারা ১২টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং এতে ২ জনকে হত্যাসহ ২৭ জন ব্যক্তি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার মধ্যে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মারধর, হত্যা, গুলিতে আহত, তল্লাসী,হত্যার হুমকি, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই, চাঁদা দাবি ইত্যাদি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মারধর, গুলিবর্ষণে আহত করা, হত্যা, হত্যার হুমকি, টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং চাঁদা দাবি। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।

পিসিজেএসএস আরও অভিযোগ করে, ইউপিডিএফ নামে-বেনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত প্রচারণা চালিয়ে আসছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নন, পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি শিশির চাকমা, মেত্তা ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলের প্রধীর তালুকদার রেগা, চাকমা সাহিত্য একাডেমির পরিচালক ইনজেব চাকমা, পুলিশ সার্জেন্ট প্রিয়দর্শী চাকমা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পহেলা চাকমা ও অগাস্টিনা চাকমাসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি।

পিসিজেএসএস দাবি করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত এসব প্রচারণার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ দেখা গেছে। সংগঠনটির ভাষ্য, অপপ্রচার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে সশস্ত্র সহিংসতা, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed