পাহাড়ি-বাঙালি নারীদের আত্মনির্ভরশীলতায় বাঘাইহাট জোনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ, মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য অঞ্চলের নারী ও যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন নতুন একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়নে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের জন্য মাসব্যাপী সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ উদ্যোগ শুধু কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনাই সৃষ্টি করবে না, বরং পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক সম্প্রীতি ও নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশিক্ষণার্থী, সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণে বাঘাইহাট, গঙ্গারাম, সুরুংনালা, দীপুপাড়া এবং ভাইবাছড়া এলাকার বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মোট ৩২ জন নারী ও যুব প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। মাসব্যাপী এ কর্মসূচিতে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে সেলাই, পোশাক তৈরি, কাটিং, ফিনিশিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু চাকরির অপেক্ষায় না থেকে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা একজন মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এই সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিক প্রয়াসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শুধু নিজেদের পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণে অবদান রাখতে পারবেন না, বরং ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্জিত দক্ষতা তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং সামাজিক মর্যাদা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারীরা জানান, এ ধরনের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ তাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। অনেকেই ভবিষ্যতে নিজস্ব টেইলারিং ব্যবসা শুরু করে পরিবারের আয় বাড়াতে চান। তাদের মতে, এই উদ্যোগ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি সমাজে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণ বেকার নারী ও যুবকদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই কর্মসূচি পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাঘাইহাট জোনের এই সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই মানবিক ও উন্নয়নমুখী ধারাবাহিকতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।