দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, ৫০ রোগীর ফলোআপ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা জোন বিনামূল্যে একটি বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেছে। এ ক্যাম্পে পূর্বে চিকিৎসাপ্রাপ্ত ৫০ জন চক্ষু রোগীর ফলোআপ পরীক্ষা, পুনর্মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।
জানা গেছে, উক্ত ক্যাম্পেইনে দীঘিনালা জোনের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পূর্বে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী ৫০ জন রোগীর চোখের অবস্থা পুনরায় পরীক্ষা করেন। একই সঙ্গে রোগীদের পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে কারা ছানি বা অন্যান্য চক্ষু অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত, তা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় প্রত্যেক রোগীকে অস্ত্রোপচার-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসা কার্যক্রম চলাকালে রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগীরা সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুর্গম এলাকায় এমন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে চক্ষুজনিত নানা সমস্যায় ভুগলেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও চিকিৎসাসেবার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর বিনামূল্যের এই চিকিৎসা কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, রোগীদের নিয়মিত ফলোআপ এবং অস্ত্রোপচারের উপযোগিতা নির্ধারণের মতো কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবার প্রতিও গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে সফলভাবে পরিচালিত এই মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও পরামর্শ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন মানবিক সহায়তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ এবং জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।