রোহিঙ্গাদের জন্য কমছে বিদেশি সহায়তা, একবেলার খাবারে বরাদ্দ ১৬ টাকা

রোহিঙ্গাদের জন্য কমছে বিদেশি সহায়তা, একবেলার খাবারে বরাদ্দ ১৬ টাকা

রোহিঙ্গাদের জন্য কমছে বিদেশি সহায়তা, একবেলার খাবারে বরাদ্দ ১৬ টাকা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

২০১৭ থেকে যে রোহিঙ্গা ঢলের শুরু, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এখনও। গত দেড় বছরেও প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছেন আরও প্রায় দেড় লাখ মিয়ানমারের নাগরিক।

বাংলাদেশে থাকা এসব রোহিঙ্গাদের দেখভালের জন্য জাতিসংঘের উদ্যোগ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)। প্রথম কয়েক বছর এতে বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেলেও দিনকে দিন তা কমছে। এ বছর ৭১০ মিলিয়ন ডলারের যে প্রতিশ্রুতি, তা গতবারের চেয়ে অন্তত ২৬ শতাংশ কম।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান বলছিলেন, ২০১৭ তে যে পরিস্থিতি ছিল, এখনো রোহিঙ্গাদের অনেকে একই অবস্থার শিকার হচ্ছে। আবার সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পে যারা, তারাও ভালো নেই। দ্রুত দেশে ফেরারও কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদের সামনে কোনো আশার আলো নেই; তাই এ সংকটের নতুন সমাধান খুঁজতে হবে।

২০১৭ তে রোহিঙ্গা ঢলের পর গাজা, সুদান ও ইউক্রেন— তিনটি বড় সংকট দেখা দিয়েছে। স্বভাবতই বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরের পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দেও অগ্রাধিকার পেয়েছে সে সব সংকট। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় রাখার আশা দেখছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, যেহেতু ফান্ড কাট হয়েছে, তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান সবকিছুই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেয়েছে। সেখান থেকে হয়তো এই রোহিঙ্গা ইস্যুটাকে আরো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ফোকাস করার জন্য উনি কাজ করবেন।

এদিকে, গত বছর যে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল, বাস্তবে মিলেছিল তার অর্ধেক। একদিকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাড়তি জন্মহার, নতুন ঢল অব্যাহত থাকা আর বিপরীতে টাকা কমে যাওয়ায় এখন তাদের তিনবেলা খাওয়ানোই দুষ্কর। ৩৩ শতাংশ রোহিঙ্গার জন্য দিনে ১২ ডলার, ৫০ ভাগের জন্য ১০ আর ১৭ ভাগের জন্য ৭ ডলার খাওয়ার খরচ এখন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যেটি সর্বোচ্চ ১২ ডলার ৩৩ শতাংশ পাচ্ছে, তাতে একজনের একবেলার দাম পড়ে ১৬ টাকা। এই টাকা দিয়ে তো একটা মিল হয় না। মানুষগুলো ক্ষুধার্ত থাকে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। ফলে আমাদের একটা ন্যাশনাল ক্রাইসিস তৈরি হচ্ছে এবং এর সাথে আমাদের নিরাপত্তা জড়িয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় চীনের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত কীভাবে মিয়ানমারে ফেরানোর কাজ অন্তত শুরু করা যায়, সেটিই সরকারের অগ্রাধিকার।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *