প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোরে ভারতকেও চায় বেইজিং!

প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোরে ভারতকেও চায় বেইজিং!

প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোরে ভারতকেও চায় বেইজিং!
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতকে ঘিরে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ (সিএমবিসি) করিডোর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বেইজিং। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে এ ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে বেইজিংয়ের কর্মকর্তাদের।

তবে এ ব্যাপারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এখনও আসেনি। বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

এনডিটিভিকে ওয়েন বলেছেন, “আমরা অনেক বছর আগে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। (তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফরে) এ ইস্যুতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে; কিন্তু যতটা আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম— ততটা হয়নি। অবশ্য এর পেছনে বিভিন্ন কারণ আছে।”

অরুণাচল ও লাদাখের নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে ভারতের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে চীনের। এই অবস্থায় ভারত এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারবে কি না— এনডিটিভির এই প্রশ্নের উত্তরে ওয়েন বলেন, “এটি একটি মুক্ত প্রকল্প। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো পরস্পরের সঙ্গে সংযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা। যে কোনো দেশ চাইলেই এখানে যোগ দিতে পারবে।”

গত ২২ জুন ৪ দিনের সরকারি সফরে বেইজিং গিয়েছিলেন তারেক রহমান। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, সেই বৈঠকে ‘বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ’ স্থাপন করতে এই করিডর প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে বাংলাদশ-চীন-ভারত-মিয়ানমারকে সংযোগকারী একটি করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিল ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সরকার। প্রস্তাবিত সেই পরিকল্পনাটি ছিল চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় এবং ঢাকা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি মহাসড়ক নির্মাণ। চার দেশের নামের অদ্যাক্ষর ব্যবহার করে সেই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছিল বিসিআইএম করিডোর।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক যেহেতু ততটা উষ্ণ নয়, তাই আপাতত কুনমিং থেকে মান্দালয় হয়ে ঢাকা পর্যন্ত করিডোর করতে চাইছে চীন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি সড়ক সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম আরব সাগরে প্রবেশাধিকার পেয়েছে চীন। প্রস্তাবিত সিএমবিসি করিডোরের মাধ্যমে বঙ্গপোসাগরে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় বেইজিং।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, চীনের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের ব্যাপারে বাংলাদেশ এখনও কোনো অবস্থান নেয়নি। গত ২৭ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “আমরা বর্তমানে প্রস্তাবটি যাচাই করছি; এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে আমরা মনে করি, মিয়ানমারের সঙ্গে যে কোনো স্থল সংযোগ স্থাপনের আগে দেশটির রাখাইন প্রদেশে শান্তি পুনরুদ্ধার করা জরুরি।”

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *