জুলাইয়ে পুলিশের স্নাইপার ব্যবহার নিয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন নিলোফার চৌধুরী মনি

জুলাইয়ে পুলিশের স্নাইপার ব্যবহার নিয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন নিলোফার চৌধুরী মনি

টু দ্য পয়েন্ট
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি ‘বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্নাইপার ছিল না, বাংলাদেশে স্নাইপার নাই’ বলে দাবি করেছেন। গত ১ জুলাই চ্যানেল আই-এর ‘টু দ্য পয়েন্ট’ নামে এক টকশোতে তে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপক সোমা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এমন দাবি করেন তিনি।

তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, পুলিশের কাছে স্নাইপার থাকার বিষয়ে নিলোফার চৌধুরী মনির দাবিটি সত্য নয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাংলাদেশ পুলিশ ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের আগের বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশ থেকে স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহ করেছে।

চ্যানেল আই-এর ‘জুলাই’ শীর্ষক টকশোটির সঞ্চালনা করছিলেন সোমা ইসলাম। এতে নিলুফার চৌধুরী মনির সঙ্গে সহআলোচক ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ। আলোচনার এক পর্যয়ে আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, ‘যাত্রাবাড়িতে যে দুইজন পুলিশকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই পুলিশগুলো কারা ছিল তারা তো স্নাইপার ছিল। জনগণ সেখানে বাসায় উঠে একদম খুঁজে ওখান থেকে বের করে এনে সেখানে ঝুলিয়ে ছিল।’

আলাউদ্দিন মোহাম্মদের এই কথার জবাবে নিলোফার চৌধুরী মনি উল্লিখিত দাবিটি করেন।

তবে এ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর নেত্র নিউজে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে নেত্র নিউজ প্রমাণ হাজির করে যে, কয়েক দফায় স্নাইপার রাইফেল কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল বাংলাদেশ পুলিশ । ২০২৩ সালের মার্চে পুলিশ সদর দপ্তর ত্রিশটি ৭.৬২ মিলিমিটার স্নাইপার রাইফেল কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে।

প্রতিবেদনটিকে আরও জানানো হয়, ‘মার্চ ২০২৪: হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের মাত্র কয়েক মাস আগেও বাংলাদেশ পুলিশ ৭.৬২ মিলিমিটার স্নাইপার রাইফেল কেনার জন্য আরেকটি দরপত্র আহ্বান করে। ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ প্রকাশিত সে বিজ্ঞপ্তিতে পঞ্চাশটি ৭.৬২ মিলিমিটার স্নাইপার রাইফেলের জন্য প্রস্তুতকারী ও সরবরাহকারীদের কাছে দরপত্র দাখিলের আহ্বান জানানো হয়।

একই বিষয়ে ইংরেজি সংবাদপত্র নিউ এইজেও ২০২৩ সালে একটিপ্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সংবাদটিতে জানানো হয়, সে বছরের, ২৩ মার্চ পুলিশ সদরদপ্তর ৩০টি ৭.৬২ মিমি স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করে।

তবে যাচাইয়ে এর বাইরেও পুলিশ সদস্যদের জন্য বিপুল পরিমাণ ৭.৬২ মিলিমিটার রাইফেল কেনার তথ্য পাওয়া গেছে । ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ১৫ হাজার ৭.৬২ মিলিমিটার সেমি-অটোমেটিক রাইফেল কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।

এ ছাড়াও পুলিশ যে টাইপ-৫৬ সেমি-অটোমেটিক রাইফেল ব্যবহার করে সেগুলোতেও ৭.৬২ মিলিমিটার কার্তুজ ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জুলাই আন্দোলন দমাতে স্নাইপার ব্যবহারের প্রমাণ দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টেও আন্দোলন দমনে ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের লেথাল অ্যামুনিশন ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে, যা স্নাইপার রাইফেলেও ব্যবহার করা যায়।

অর্থ্যাৎ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি চ্যানেল আই-এর টকশোতে, ‘বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্নাইপার ছিল না, বাংলাদেশে স্নাইপার নাই’ বিষয়ক যে দাবি করেছেন তা সত্য নয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *