মিয়ানমারের সাবেক সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জ্যোতিষী ভিক্ষু ড. পে নিয়ান ছুরিকাঘাতে নিহত

মিয়ানমারের সাবেক সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জ্যোতিষী ভিক্ষু ড. পে নিয়ান ছুরিকাঘাতে নিহত

মিয়ানমারের সাবেক সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জ্যোতিষী ভিক্ষু ড. পে নিয়ান ছুরিকাঘাতে নিহত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের খ্যাতনামা জ্যোতিষী, বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং দেশটির সাবেক সামরিক শাসক সিনিয়র জেনারেল থান শোয়ে ও সাবেক প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের উপদেষ্টা ড. পে নিয়ান (৭৫) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ইয়াঙ্গুনের হমাবি টাউনশিপের সান্দাকু বৌদ্ধ বিহারে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উ পিন্নিয়া উন্তা নামেও পরিচিত এই ভিক্ষুর ব্যক্তিগত কক্ষে গুরুতর ছুরিকাঘাতের চিহ্নসহ তার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মামলাটি মিয়ানমার পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) সরাসরি তদন্ত করছে।

পুলিশের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে তাকে নিজ কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত খ্যাতিমান ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের শাসনামলে শুভ দিন-ক্ষণ নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ায় ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি, তবে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্তকারীরা জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পেশায় চিকিৎসক ছিলেন ড. পে নিয়ান। পরবর্তীতে তিনি এশীয় ও পাশ্চাত্য জ্যোতিষশাস্ত্র এবং সংখ্যাতত্ত্বের (নিউমারোলজি) অন্যতম বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি বহু জ্যোতিষগ্রন্থ ও পঞ্জিকা প্রণয়ন করেন, যা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহৃত হতো।

জানা যায়, সাবেক সামরিক শাসক থান শোয়ে সেতু, বাঁধ, সরকারি ভবন ও প্যাগোডা নির্মাণের শুভ সময় নির্ধারণে নিয়মিত তার পরামর্শ নিতেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাও সম্পদ ও ক্ষমতা অর্জনের আশায় তার কাছ থেকে আশীর্বাদ ও জ্যোতিষ পরামর্শ গ্রহণ করতেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের প্রশাসনেও তিনি রাষ্ট্রপতির পাঁচজন আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টার একজন ছিলেন। অন্য উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিলেন উ আন মং, ড. মা টিন উইন, ড. সোয়ে থুইন এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সান মিন্ট।

২০১১ সালে থেইন সেইনকে ভারতের বোধগয়ার আদলে নেপিদোতে ‘থাত্তা থাত্তাহা মহা বাওদিন প্যাগোডা’ নির্মাণের পরামর্শও দিয়েছিলেন ড. পে নিয়ান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, থেইন সেইন মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে তাকে ‘আমার উপদেষ্টা’ বলে পরিচয় করিয়ে দিতেন এবং তার বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রশংসা করতেন।

তানিনথারি অঞ্চলের থায়েতচাউং শহরে জন্ম নেওয়া ড. পে নিয়ান কৈশোরে খ্যাতনামা বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ধ্যানগুরু মাহাসি সায়াদাও-এর অধীনে টানা ১২ বছর অধ্যয়ন করেন। ২০১১ সালের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে দীক্ষা নিলেও তিনি সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ জেনারেল, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা এবং সামরিক-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)-এর নেতাদের কাছে একজন প্রভাবশালী পরামর্শক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

তিনি জ্যোতিষশাস্ত্রের ওপর অসংখ্য বই রচনা করেন এবং ইয়াঙ্গুনের সান্দাকু বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই বিহারের প্রধান অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের সরকারি চান্দ্র পঞ্জিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

উল্লেখ্য, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ড. পে নিয়ান মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় অঙ্গনের একটি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত সান্দাকু বিহার সাবেক প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনসহ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান পেয়েছিল।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *