যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ান
![]()
নিউজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা চুক্তিকে ইসরাইল যেন কোনোভাবেই নস্যাৎ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
শনিবার (৪ জুলাই) ইস্তাম্বুল শহরে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সভায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা এবং অবদান ছাড়া তৈরি হওয়া কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরাইলি প্রশাসন ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ইসরাইল সরকারকে যুদ্ধ-আসক্ত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ-আসক্ত ইসরাইলি সরকারকে আমাদের ভূগোলকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।’
তুর্কি নেতা এর আগেও একাধিকবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি গাজা, লেবানন এবং সিরিয়ায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চালানো অনবরত হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রান্টে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এরপর চুক্তির বাস্তবায়ন কিভাবে হবে তা নিয়ে গত মাসের শেষ দিকে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক শহরে কারিগরি বৈঠকে বসেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। ওই বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বৈঠকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করে পাকিস্তান ও কাতার।
তবে লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলার জেরে আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে নতুন উত্তেজনা দেখা দেয়। এমনকি নৌ চলাচল নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটে। কয়েকদিনের উত্তেজনার পর গত সপ্তাহে কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলগুলোর মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে ইরানের শীর্ষ আলোচক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে অংশ নেননি। ইরানের পক্ষে কারিগরি দলের নেতৃত্ব দেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, বৈঠকে প্রধানত হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের এজেন্ডায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ এবং লেবাননের চলমান পরিস্থিতিও স্থান পেয়েছে।
বৈঠক শেষে ইরানি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে কাজেম গারিবাবাদি জানান, দোহায় দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের’ বিষয়টি উত্থাপন করে ইরান। এ সময় ভবিষ্যতে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানে দুই পক্ষ একটি সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা বা যোগাযোগ চ্যানেল প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়।
দ্বিতীয় বৈঠকে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা এই অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে জানান ইরানি কর্মকর্তারা।
যদিও বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবুও বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চালু রাখা ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জব্দ অর্থ ছাড়ের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে আলোচনা অব্যাহত থাকলে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান শেষে আগামী ১১ জুলাই পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হবে বলে শনিবার এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।