সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় প্রথমবারের মতো সব ডিভিশনে অংশ নিচ্ছে আনসার ও ভিডিপির প্লাটুন
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ এবার প্রথমবারের মতো দেশের সব ডিভিশনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা/থানা আনসার কোম্পানির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার, আধুনিক যুদ্ধকৌশলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
৫ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ মহড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী আনসার প্লাটুনের সদস্যদের প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্তি মহড়াটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’-এর ধারণাকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থায়, বিশেষ করে অপ্রচলিত যুদ্ধ (Unconventional Warfare-UCW), সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জাতীয় সংকট মোকাবিলায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তৃণমূল পর্যায়ের আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহড়ায় অংশগ্রহণের আগে সদস্যদের জন্য তিন দিনব্যাপী অন দ্য জব ট্রেনিং (OJT) পরিচালনা করা হয়েছে। এ প্রশিক্ষণে রেইড, অ্যাম্বুশ, ফার্ম বেস স্থাপন, ক্ষুদ্র কৌশলগত অভিযানসহ বিভিন্ন সামরিক বিষয়ের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে সদস্যরা বাস্তবধর্মী অভিযানে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন।

আনসার বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমান মহাপরিচালকের নেতৃত্বে উপজেলা আনসার কোম্পানি ও প্লাটুনগুলোকে নতুনভাবে সংগঠিত ও আধুনিক কাঠামোয় সাজানো হয়েছে। শিক্ষিত, তরুণ ও দেশপ্রেমিক স্বেচ্ছাসেবকদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে বাহিনীর কার্যকারিতা ও অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে একই মহড়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা শুধু আধুনিক সামরিক কৌশলই শিখবেন না, বরং সমন্বিত অভিযান পরিচালনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেতৃত্ব, লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা এবং অপ্রচলিত যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করবেন। ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এ মহড়ায় উপজেলা ও থানা পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। বাহিনীটির মতে, এই যৌথ মহড়া দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করবে এবং জাতীয় প্রয়োজনে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া প্রতিবছরই বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি, কৌশলগত সক্ষমতা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয় যাচাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারের মহড়ায় প্রথমবারের মতো উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের অংশগ্রহণ দেশের সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।