ভারী বর্ষণে পাহাড়ধস: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮, স্থানীয় ১ জনের মৃত্যু
![]()
নিউজ ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। একই রাতে কক্সবাজার শহরের একটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও একজন স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজন নিহত হওয়ার বিষয়টি উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান সাউথইস্ট এশিয়া জার্নালকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে।
এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। এছাড়া এঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
একই রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে ৭ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু একরামের মৃত্যু হয়।
নিহত একরাম ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
রাত ৩টার দিকে উপজেলার ১১ নম্বর বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
নিহতরা হলেন, উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।
এদিকে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় একই পরিবারের তিনজন মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আলী আকবর নামের এক ব্যক্তিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের পৃথক পৃথক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারি। ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
সর্বশেষ, ২০২৪ সালের ১৯ জুন টানা ভারী বর্ষণের ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮, ৯, ১০ ও ১৪-এ পাহাড়ধসে মোট ১০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ৯ জন রোহিঙ্গা এবং ১ জন বাংলাদেশি শিশু ছিল। এরপর ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর পাহাড়ধসে এক রোহিঙ্গা শিশু মারা যায়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী আরও দুইদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।