মাটিরাঙ্গায় বন্যার ক্ষতচিহ্ন: কৃষি ও অবকাঠামোয় ব্যাপক বিপর্যয়

মাটিরাঙ্গায় বন্যার ক্ষতচিহ্ন: কৃষি ও অবকাঠামোয় ব্যাপক বিপর্যয়

মাটিরাঙ্গায় বন্যার ক্ষতচিহ্ন: কৃষি ও অবকাঠামোয় ব্যাপক বিপর্যয়
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় কৃষি, মৎস্য ও সড়ক অবকাঠামো খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। পাশাপাশি উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।

মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল বলেন, ‘বন্যার শুরু থেকেই আমরা পৌর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ও বানভাসি মানুষের পাশে রয়েছি। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয়নি; অনেক পরিবার এখনও চরম সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

মাটিরাঙ্গায় বন্যার ক্ষতচিহ্ন: কৃষি ও অবকাঠামোয় ব্যাপক বিপর্যয়

মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নির্দেশে শুরু থেকেই তারা বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং ত্রাণ বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বন্যায় বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৩০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ২৪ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া টানা বর্ষণ ও বন্যায় প্রায় ১১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ৩ কিলোমিটার কাঁচাপাকা রাস্তা এবং ৯টি সেতুর এপ্রোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় একটি সেতুর রিটেইনিং ওয়াল ও সড়কের প্রতিরক্ষা দেয়ালসহ বিভিন্ন সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাতে আনুমানিক ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, উপজেলার মোট ২ হাজার ৮০টি পুকুরের মধ্যে ১৬ হেক্টর আয়তনের ৯৫টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাতে প্রায় ৫৯ লাখ ৫৬ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলমান বন্যায় আউশ ধানের ৩৫৫ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ২১ হেক্টর জমি বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হেক্টর জমি আংশিক এবং ৬ দশমিক ৬৪ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির ৩৩২ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ২৯ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১১ দশমিক ৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মাটিরাঙ্গায় বন্যার ক্ষতচিহ্ন: কৃষি ও অবকাঠামোয় ব্যাপক বিপর্যয়

আমন মৌসুমে উপজেলার ১৯০ হেক্টর বীজতলার মধ্যে ৩১ হেক্টর বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ হেক্টর বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৪২৫ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এ ছাড়া উপজেলার ৩ হাজার ৩৭০ হেক্টর ফলবাগানের মধ্যে ২২ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে চলমান বন্যায় উপজেলায় অন্তত ৭৫৩ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কৃষকদের পুনর্বাসন ও পুনরায় আবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *