প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সংস্কারের নির্দেশ ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সংস্কারের নির্দেশ ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সংস্কারের নির্দেশ ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্র সরকারকে কঠোর ও স্থায়ী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। আদালত জানিয়েছে, সরকার যে সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে, তার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তারা পর্যবেক্ষণ করবে।

একই সঙ্গে বছরের পর বছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা পরিচালনার প্রবণতারও সমালোচনা করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে কেন্দ্র সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ইতোমধ্যে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি সরাসরি তদারকি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে পরীক্ষা পরিচালনায় নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এখন আর সাময়িক সমাধানের ওপর নির্ভর করা যাবে না। ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আদালত আরও জানান, আগামী বছর থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষার সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে আদালত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, পরীক্ষার্থীদের তথ্য এবং পুরো ডিজিটাল অবকাঠামোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তুষার মেহতা আদালতকে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। শিশু ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা ও তদারকির মধ্যেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলেও তিনি জানান।

চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, আন্দোলন ও আইনি লড়াই শুরু হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও কেন্দ্র সরকার দাবি করেছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা কঠোর করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর শাস্তির বিধান করলেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হবে না। পরীক্ষা প্রস্তুতি, প্রশ্ন সংরক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান, পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা-সব ক্ষেত্রেই আধুনিক ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নিরীক্ষা ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণও জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সর্বোচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ তাৎপর্যপূর্ণ। আদালত শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলার কথা বলেনি, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকনির্দেশনাও দিয়েছে। এখন সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং সেগুলোর কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলের।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *