মণিপুর সহিংসতার মামলায় বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

মণিপুর সহিংসতার মামলায় বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

মণিপুর সহিংসতার মামলায় বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব ভারতের সুপ্রিম কোর্টের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

২০২৩ সালের জাতিগত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তদন্ত সংস্থাগুলোকে চলমান তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের কাছে চার্জশিটের কপি পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছে আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মণিপুর সহিংসতা-সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানিকালে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

শুনানিতে আদালত উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) এবং মণিপুরের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) যেসব মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে, সেগুলোর কপি এখনো অনেক ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের হাতে পৌঁছায়নি।

এ প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীদের পক্ষে নিয়োজিত আইনগত সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবীদের গৌহাটি হাইকোর্ট ও মণিপুর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে চার্জশিট সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিবিআই ও এসআইটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চার্জশিটের কপি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালত মণিপুর সরকার, এসআইটি ও সিবিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটিকে তদন্ত সম্পন্ন হওয়া এবং চার্জশিট দাখিল করা মামলাগুলোর তালিকা, পাশাপাশি এখনো তদন্তাধীন মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেন।

বেঞ্চ বলেন, এই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কতগুলো বিশেষ আদালত প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া, ২০২৩ সালের সহিংসতার পর থেকে নিখোঁজ থাকা ৩০ জনের বিষয়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মণিপুর হাইকোর্টকে।

সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআই, মণিপুর এসআইটি এবং আদালত-নিযুক্ত তদারকি কমিটি—যার নেতৃত্বে রয়েছেন মহারাষ্ট্র পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক দত্তাত্রেয় পদসালগিকার—তারা যেন তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন করে অগ্রগতি প্রতিবেদন (স্ট্যাটাস রিপোর্ট) জমা দেয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩ মে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি (এসটি) মর্যাদা দেওয়ার দাবির প্রতিবাদে পাহাড়ি জেলাগুলোতে আয়োজিত ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’-এর পর মণিপুরে ব্যাপক জাতিগত সহিংসতা শুরু হয়। এরপর থেকে চলমান সংঘাতে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু, শত শত মানুষ আহত এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *