বান্দরবানের রুমায় হামে পাঁচ দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর দাবি, আরও ছয়জনের অবস্থা গুরুতর
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলোয় হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত পাঁচ দিনে এই উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের দাবি, যদিও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃত্যুর খবর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, শনিবার রুমা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লিনতং পাড়ায় হামের উপসর্গে মারা যায় দুই শিশু—শৈলুং খুমীর ছেলে পলি খুমী (৯) ও টয়সাং খুমীর মেয়ে নাটয়ী খুমী (৬)। এ নিয়ে পাঁচ দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে বলে জানান তাঁরা, তবে বাকি তিন শিশুর পরিচয় এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ১৪ জন আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন। কিন্তু এর বাইরে গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গম পাড়ায় আরও অন্তত ১৩ শিশু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা ছাড়াই রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।
মেনসিং পাড়ায় আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে মেনপ্রে ম্রো (১৩), তুম ওয়াই ম্রো (১৩), পংরাও ম্রো (১০) ও চামরুম ম্রো (৮)—শেষ দুজন একই পরিবারের দুই বোন। চিনি পাড়ায় আক্রান্ত হয়েছে সংলিও ম্রো (১২)। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ঙানরাও ম্রো জানান, পালে পাড়ায় তাই পাও ম্রো (১৩) ও প্রিংরাও ম্রো (১৫), আর রুইফ পাড়ায় চামঙি ম্রো (১৪), সাংক্লাম ম্রো (১০), চামসুম ম্রো (১০), কিংসাই ম্রো (মাত্র ২ বছর বয়স) ও সামছম ম্রো (১৩) হামের উপসর্গে ভুগছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুর্গমতার কারণে এখনো কোনো চিকিৎসক বা মেডিকেল টিম এসব বসতিতে পৌঁছাতে পারেনি। জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ নিয়ে ভুগতে থাকা শিশুদের জন্য দরিদ্র পরিবারগুলো সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থাও করতে পারছে না।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হাসান স্বীকার করেন, দুর্গম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে হামের উপসর্গ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সত্য, তবে মৃত্যুর ঘটনা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তিনি জানান, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মী ও মেডিকেল টিম পাঠানোর পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।
তাঁর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে, যাদের মধ্যে ১৪ জন এখনো ভর্তি। টিকাদানের হার কেন কম, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ম্রো ও খুমী সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে টিকা নিয়ে অনীহাও একটি বড় কারণ।
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী বলেন, শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগে গত ২২ জুলাই গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের অংলাই পাড়ায় ২১ জন শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল এবং একই সঙ্গে ৬২ জন সাধারণ মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষ মেডিকেল টিম। অর্থাৎ প্রাদুর্ভাবের খবর নতুন না হলেও, এর মধ্যেই একের পর এক নতুন পাড়ায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর আসতে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেই মনে হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।