মিয়ানমারে সাইবার প্রতারণা চক্রের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান পার্লামেন্টে পাস

মিয়ানমারে সাইবার প্রতারণা চক্রের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান পার্লামেন্টে পাস

অনলাইন জালিয়াতি ও সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন পাস করেছে মিয়ানমারের জান্তা-সমর্থিত পার্লামেন্ট। নতুন আইনে সাইবার প্রতারণা চক্রে মানুষকে অবৈধভাবে আটক রাখা, নির্যাতন করা বা জোরপূর্বক কাজ করাতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানী নেপিদোতে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে 'অ্যান্টি-সাইবার ফ্রড অ্যাক্ট' পাস হওয়ার ঘোষণা দেন পার্লামেন্টের স্পিকার অং লিন দুই। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিভিন্ন সংশোধনী অনুমোদনের পর বিলটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হয়েছে। পার্লামেন্ট সদস্য আই চান বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, আলোচনা হলেও আইনের মূল বিধানগুলোতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে খসড়ায় থাকা মৃত্যুদণ্ডের বিধানও চূড়ান্ত আইনে বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে, গত মে মাসে প্রকাশিত খসড়া আইনে বলা হয়েছিল, কাউকে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সহিংসতা, নির্যাতন, বেআইনি আটক বা অমানবিক আচরণ করলে ১০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে। এছাড়া এ ধরনের অপরাধের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। নতুন আইনে শুধু জোরপূর্বক শ্রমই নয়, অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনা, সংঘবদ্ধ সাইবার জালিয়াতি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘাতকবলিত মিয়ানমারে শত শত অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব কেন্দ্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রেমের ফাঁদ (রোমান্স স্ক্যাম), ভুয়া বিনিয়োগ, অনলাইন আর্থিক প্রতারণা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতারণা চক্রে কাজ করা অনেক বিদেশিকে মানবপাচারের মাধ্যমে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের জোর করে অনলাইন প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়। কাজে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক নির্যাতন, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই মিয়ানমার সরকার এই কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। তবে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধের কারণে আইনটির বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল ডেস্ক

অনলাইন জালিয়াতি ও সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন পাস করেছে মিয়ানমারের জান্তা-সমর্থিত পার্লামেন্ট। নতুন আইনে সাইবার প্রতারণা চক্রে মানুষকে অবৈধভাবে আটক রাখা, নির্যাতন করা বা জোরপূর্বক কাজ করাতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানী নেপিদোতে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ‘অ্যান্টি-সাইবার ফ্রড অ্যাক্ট’ পাস হওয়ার ঘোষণা দেন পার্লামেন্টের স্পিকার অং লিন দুই। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিভিন্ন সংশোধনী অনুমোদনের পর বিলটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হয়েছে।

পার্লামেন্ট সদস্য আই চান বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, আলোচনা হলেও আইনের মূল বিধানগুলোতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে খসড়ায় থাকা মৃত্যুদণ্ডের বিধানও চূড়ান্ত আইনে বহাল রাখা হয়েছে।

এর আগে, গত মে মাসে প্রকাশিত খসড়া আইনে বলা হয়েছিল, কাউকে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সহিংসতা, নির্যাতন, বেআইনি আটক বা অমানবিক আচরণ করলে ১০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে। এছাড়া এ ধরনের অপরাধের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

নতুন আইনে শুধু জোরপূর্বক শ্রমই নয়, অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনা, সংঘবদ্ধ সাইবার জালিয়াতি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘাতকবলিত মিয়ানমারে শত শত অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব কেন্দ্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রেমের ফাঁদ (রোমান্স স্ক্যাম), ভুয়া বিনিয়োগ, অনলাইন আর্থিক প্রতারণা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতারণা চক্রে কাজ করা অনেক বিদেশিকে মানবপাচারের মাধ্যমে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের জোর করে অনলাইন প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়। কাজে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক নির্যাতন, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই মিয়ানমার সরকার এই কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। তবে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধের কারণে আইনটির বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed