প্রভাবমুক্ত থেকে পুলিশ সদস্যদের কাজ করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। বরং এই বাহিনীকে হতে হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও মানবিক একটি সংস্থা।
রোববার রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচ (১ম পর্যায়) এর সমাপনী কুচকাওয়াজ-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করায় চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি।
ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পরিশেষে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নবীন কর্মকর্তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে আসা ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ১ম পর্যায়ের অফিসারদের অভিনন্দন জানান।
ছয় মাসব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের ৬ মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ। ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের ৫৮ জন প্রশিক্ষণার্থী সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি। অভিবাদন গ্রহণ শেষে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট প্রবেশনার এবং বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড- এই দুই ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ এ, বি, এম মামুন।
সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সহকারী পুলিশ সুপারগণ বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।