ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির সরকারি বাহিনীর অন্তত ৩০ সেনা নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১৫ জন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া ইয়েমেনি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হাদরামাউত ও মারিব গভর্নরেটের একাধিক সামরিক শিবিরে এই হামলা চালানো হয়। লক্ষ্যবস্তু হওয়া শিবিরগুলোর মধ্যে ইয়েমেনের জরুরি বাহিনী পরিচালিত কয়েকটি ঘাঁটিও ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় ‘শত শত’ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, এটি তাদের বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় হুথিদের চালানো হামলা।

একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মারিবের উত্তরে আল-জাওফ গভর্নরেট থেকে হুথিরা অন্তত আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এগুলো হাদরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আবর এবং মারিবের আল-রউক এলাকায় অবস্থিত সামরিক শিবিরগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়।

তারা আরও জানান, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

চার বছরের শান্ত পরিস্থিতির পর ফের উত্তেজনা
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লড়াই আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় চার বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর উভয় পক্ষই নতুন করে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হুথিরা ইতোমধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে এবং সৌদি-সংযুক্ত বিভিন্ন জাহাজে হামলা শুরু করেছে।

যুদ্ধের পটভূমি
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করলেও তারা এখন পর্যন্ত হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করতে পারেনি।

ইয়াহিয়া সারি বলেন, সাম্প্রতিক হামলা সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর ‘সামরিক সমাবেশ’ এবং ‘সংঘাত আরও বাড়ানোর প্রস্তুতির’ জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে।

লোহিত সাগর ও হরমুজ সংকটের প্রভাব
জুলাইয়ের শুরুতে উত্তেজনা আরও বাড়ে, যখন হুথিরা অভিযোগ করে যে, একটি ইরানি বিমানকে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এরপর ১৩ জুলাই ইয়েমেন সরকার জানায়, আরেকটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতে তারা সানা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় হুথিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলা চালায়, যা সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রতিহত করার দাবি করে।

২০ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে এবং লোহিত সাগরে সৌদি-সংযুক্ত জাহাজে হামলা শুরু করে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌবাণিজ্য রুটে এসব হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও জ্বালানি রফতানিতেও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পশ্চিম ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করেছে, যা ২০২২ সালের পর তাদের প্রথম বড় সামরিক অভিযান।

হুথিরা দাবি করছে, তাদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি অঞ্চলের ওপর সৌদি আরব যে ‘অবরোধ’ আরোপ করেছে, তার জবাব হিসেবেই তারা সামুদ্রিক অবরোধ ও নৌ হামলার পথ বেছে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধকে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ দিতে পারে এবং এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। 

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *