‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবির আড়ালে বিচ্ছিন্নতার ষড়যন্ত্র চলছে: স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবির আড়ালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি। সংগঠনটি দাবি করেছে, এর সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত ‘কুপল্যান্ড প্ল্যান’-এর যোগসূত্র রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনীতে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল—‘আদিবাসী বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: সম্প্রীতি, বিভাজন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘিরে ষড়যন্ত্র’।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বাঙালি এবং তাদেরই বাংলাদেশের প্রাচীন অধিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ প্রসঙ্গে তারা ১৮ শতকে রচিত ‘রিয়াজ-উস-সালাতীন’ গ্রন্থের উল্লেখ করেন। তবে এ ধরনের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা প্রয়োজন।
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নেতাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষেরা বর্তমান ভারত, মিয়ানমার, তিব্বত, কম্বোডিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন সময়ে এ অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করেছেন। সংগঠনটি তাদের ‘আদিবাসী’ নয়, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ কর্মকর্তা রেজিনাল্ড কুপল্যান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা রাখার চিন্তা করা হয়েছিল। সংগঠনটি এটিকে ‘কুপল্যান্ড প্ল্যান’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং বর্তমান ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবির সঙ্গে এর একটি যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করে।
তাদের ভাষ্য, ২০০৭ সালের পর বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ পরিচয় ও স্বীকৃতির দাবি নতুন করে জোরালো হয়। এর সঙ্গে জাতিসংঘের United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples (UNDRIP)-এর বিষয়টিও তারা যুক্ত করেন।
সংগঠনটির দাবি, জাতিসংঘের ওই ঘোষণাপত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বশাসন, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বিধানকে তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরেন।
তবে এখানে উল্লেখযোগ্য, UNDRIP একটি জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র এবং এটি নিজে কোনো বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি নয়। এর বিভিন্ন ধারার ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। একইভাবে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের স্বীকৃতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অঞ্চলের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আইনি অধিকার সৃষ্টি করে—এমন সরল ব্যাখ্যাও আন্তর্জাতিক আইনের সাধারণ অবস্থান নয়।
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন, এনজিও ও স্বার্থান্বেষী মহল ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির প্রচারণার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি ও রাজনৈতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছে।
তাদের অভিযোগ, এর চূড়ান্ত লক্ষ্য পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘাত সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি এবং কথিত ‘জুম্মল্যান্ড’ নামে একটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
তবে সংগঠনটি এসব দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো নথি বা প্রমাণ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপস্থাপন করেনি। ফলে এগুলোকে সংগঠনটির রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ হিসেবেই দেখার সুযোগ রয়েছে।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি না করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে দেশের জনগণকে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি এবং বিভিন্ন ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও কবিতা আবৃত্তিকারীদের নামের অংশে পরে তথ্য সংযোজনের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির শেষে মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের নাম, দপ্তর সম্পাদক, স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি কেন্দ্রীয় কমিটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।