রামগড়ে শ্বশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির রামগড়ে শ্বশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয়রা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রামগড় বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, গত ২ আগস্ট রামগড় উপজেলার ২ নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খলিবাড়ি এলাকায় ওই তরুণীকে তার শ্বশুর দেলোয়ার হোসেন ধর্ষণ করেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ভুক্তভোগী কান্নাকাটি করে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি তার মাকে জানান।
পরিবারের অভিযোগ, এর আগেও বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই তরুণীকে অস্বাভাবিক ঘুমের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে অনৈতিক আচরণ করা হয়েছিল। তবে ভয় ও মানসিক চাপের কারণে সে সময় বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি বলে পরিবারের কাছে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
পরিবারের দাবি, ২ আগস্ট পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া এবং জোরপূর্বক একটি কক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভুক্তভোগী চিৎকার করে বাধা দেন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে তিনি পরিবারের কাছে চলে আসেন।
এ ঘটনায় রামগড় থানায় মামলা করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও স্বজনের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তাদের দাবি, চলাচলের সময় গালিগালাজ ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলার কারণে পরিবারের সদস্যদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যৌন সহিংসতার অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপ ছাড়াই তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয়, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হুমকি-ধমকির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো প্রতিহিংসা চান না; আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।