দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে পার্বত্য ফাউন্ডেশন, ৬০ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে পার্বত্য ফাউন্ডেশন, ৬০ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে পার্বত্য ফাউন্ডেশন, ৬০ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনপদে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় উৎসাহিত করতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পার্বত্য ফাউন্ডেশন’। প্রত্যন্ত এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটির এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বান্দরবানের লামা উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধুরঝিরি এলাকায় ‘মধুরঝিরি নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানা’র ৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সংগঠনের অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের হাতে চক, স্লেট, ডাস্টারসহ পড়ালেখার প্রয়োজনীয় মৌলিক সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে শিক্ষা উপকরণের সহজলভ্যতা এখনও অনেক পরিবারের জন্য চ্যালেঞ্জ, সেখানে এ ধরনের সহায়তা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কর্মসূচিতে মধুরঝিরি নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা শাহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘জাগ্রত যুব সংঘ’-এর প্রতিনিধি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও ইরান হোসেন সার্বিক সহযোগিতা করেন।

পার্বত্য ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সাল থেকে সংগঠনটি অনেকটা প্রচারের আড়ালেই পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক ও দুর্গম জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে পার্বত্য ফাউন্ডেশন, ৬০ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

এরই ধারাবাহিকতায় এর আগে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, কুরআন শরিফ ও শিক্ষার্থীদের গাইড বই বিতরণ, নতুন পোশাক প্রদান, টিউবওয়েল সংস্কার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে সংগঠনটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে শুধু বিদ্যালয় বা মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য সহযোগিতাও তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পার্বত্য ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, পার্বত্য এলাকার প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার মৌলিক উপকরণ তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তাদের মতে, পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো গেলে শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, দীর্ঘমেয়াদে পুরো এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রমে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed