অশ্লীল ভিডিও আদান-প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন গ্রেপ্তার

অশ্লীল ভিডিও আদান-প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন গ্রেপ্তার

অশ্লীল ভিডিও আদান-প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন গ্রেপ্তার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

মোবাইলে ভিডিও আদান-প্রদানের আলামত পাওয়ার দাবি পুলিশের; আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে তদন্ত অব্যাহত থাকার কথা

জার্নাল প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর ছবি ব্যবহার করে অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও তা আদান-প্রদানের অভিযোগে দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলায় ডিবিসি নিউজের রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী এবং রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে মামলার বাদীর ছবি ব্যবহার করে তৈরি কথিত অশ্লীল ভিডিও আদান-প্রদানের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। তবে মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।

আদালতে দেওয়া তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদের পশ্চিম-উত্তর কর্নারের একটি চায়ের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে প্রথমে আলী আকবর সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি Vivo Y300 5G অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মোবাইলের গ্যালারি, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার পর্যালোচনা করে মামলার বাদীর ২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের কথিত অশ্লীল ভিডিও আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ভিডিওটি আদান-প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং ভিডিওটি তাকে সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী সরবরাহ করেছেন বলে জানিয়েছেন—এমন দাবি করেছে পুলিশ।

এরপর একই দিন দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে জেলা পরিষদের একই এলাকার চায়ের দোকানের সামনে থেকে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে Vivo V29e 5G অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, সৈকতের মোবাইল ফোনও পর্যালোচনা করে মামলার বাদীর ওই কথিত অশ্লীল ভিডিও আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। পরে মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়।

মামলার এজাহার ও আদালতে দাখিল করা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এমবিএ’র এক শিক্ষার্থী এ মামলার বাদী। গত ২৯ জুলাই দুপুরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থানকালে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ‘কামাল’ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের একটি অশ্লীল ভিডিও পাঠানো হয়।

বাদীর অভিযোগ, ভিডিওটি পর্যালোচনা করে তিনি দেখতে পান তার ছবি সম্পাদনা বা ‘সুপার ইম্পোজিং’ করে অন্য একটি পর্নোগ্রাফিক ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত করে কথিত অশ্লীল ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ভিডিওটির উৎস জানতে বাদী ‘কামাল’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, রাঙামাটির আলী আকবর সুমন ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাকে ভিডিওটি পাঠিয়েছেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বাদী ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, কথিত চক্রের মূল হোতা শনাক্ত, পলাতক ও সহযোগী আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান যাচাই এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্য ও নাম-ঠিকানা এখনো যাচাই করা হয়নি। তদন্তের প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে।

এদিকে, ১২ আগস্ট দুই আসামিকে যথাযথ পুলিশ পাহারায় আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলহাজতে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালতে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, সৈকত রঞ্জন চৌধুরী রাঙামাটি জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে সাংবাদিকতার আড়ালে সৈকত রঞ্জন চৌধুরী নিজের ফেসবুক ওয়ালে বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন উসকানি দিতেন। এছাড়া স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার আমলে তিনি বামপন্থি ছাত্র ইউনিয়নকে ও গণজাগরণ মঞ্চের পদবী ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হয়রাণিতেও নানা ভুমিকা রাখেতেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *