সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন মেরিটাইম জোটের বহুজাতিক কমান্ড কাঠামো চালুর প্রস্তুতি

সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন মেরিটাইম জোটের বহুজাতিক কমান্ড কাঠামো চালুর প্রস্তুতি

সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন মেরিটাইম জোটের বহুজাতিক কমান্ড কাঠামো চালুর প্রস্তুতি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে গঠিত সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের’ (এমএমডিসি) বহুজাতিক কমান্ড কাঠামো সক্রিয় করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে আরব নিউজ ও আশার্ক আল-আওসাত জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর সামরিক কর্মকর্তা ও কর্মীদের জোটের কমান্ড, যৌথ সামুদ্রিক অভিযান এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে যুক্ত করার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ‘হুমকি মোকাবিলা’ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ‘কৌশলগত’ সম্পর্ক জোরদার করার অংশ হিসেবে বাংলাদেশও এই সামরিক জোটে অংশ নিচ্ছে।

আরব নিউজ জানায়, বৃহস্পতিবার জেদ্দায় ওয়েস্টার্ন ফ্লিট কমান্ডে জোটের তৃতীয় পরিকল্পনা সভা হয়, যেখানে ৩৯টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৫টি দেশ জোটের যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে ১৩টি দেশ প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের সদস্যপদ নিয়েছে। বাকি দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জোটের নেতৃত্ব ও লক্ষ্য

গত মাসে রিয়াদে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকের পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে এই বহুজাতিক জোট গঠনের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ শুরুতে এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেয়।

জোটের প্রথম কমান্ডার হিসেবে গত সপ্তাহে নিয়োগ পেয়েছেন সৌদি আরবের রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি। বৃহস্পতিবার জেদ্দার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জোটের প্রথম মেয়াদে ডেপুটি কমান্ডারের (উপ-অধিনায়ক) দায়িত্ব পাবে পাকিস্তান।

ইতোমধ্যে জোটের সদরদপ্তর নির্ধারণ, লোগো অনুমোদন এবং কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও পরিকল্পনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অ্যাডমিরাল আল-শেহরি বলেছেন, এই জোটের মূল লক্ষ্য হল ‘টেকসই সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জোটে যোগ দেওয়ার ‘ক্রমবর্ধমান আবেদন’ সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় এই জোটের বৈশ্বিক গুরুত্বকেই তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ—বিশেষ করে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই বহুজাতিক জোট কাজ করবে।

সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, এই জোট সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা সংগঠনকে লক্ষ্য করে এটি গঠিত হয়নি। আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই এটি পরিচালিত হবে।

গত ২ অগাস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, “কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে কৌশলগত এবং এটা খুবই মজবুত সম্পর্ক হবে।”

জোটে বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে বা সৈন্য পাঠানো হবে কি না, এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, “এটি হুতিদের কর্মকাণ্ড মোকাবিলার জন্য একটি জোট। তো, হুতিদের মোকাবিলা করতে যে ধরনের সহায়তা লাগবে, বাংলাদেশের যে ‘রিসোর্সেস’ রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা সেটা দেব।”

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জোটের পরবর্তী ধাপে কাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অপারেশনাল প্রস্তুতি অর্জন এবং অর্পিত মিশনগুলো বাস্তবায়নের দিকে মনোনিবেশ করা হবে।

আরব নিউজ লিখেছে, কাঠামো তৈরির পর্ব শেষে এখন সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতার সমন্বয়ে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার নতুন ধাপে প্রবেশ করছে এমএমডিসি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *