কাশ্মীরে ৫০৪ জন বাংলাদেশি চিহ্নিত করার দাবি প্রশাসনের

কাশ্মীরে ৫০৪ জন বাংলাদেশি চিহ্নিত করার দাবি প্রশাসনের

কাশ্মীরে ৫০৪ জন বাংলাদেশি চিহ্নিত করার দাবি প্রশাসনের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

জম্মু ও কাশ্মীর সরকার ‘উচ্চপর্যায়ের জনসংখ্যা পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটি’কে (এইচএলসিডিসি) জানিয়েছে যে, পুরো জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে ৭,৬৫৬ জন রোহিঙ্গা এবং ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘দ্য ট্রিব্রিউন’-এর প্রতিবেদনে সরকারি তথ্যের বরাতে দাবি করা হয়, জম্মু অঞ্চলের ১০টি জেলায় ৬,৭৩৭ জন রোহিঙ্গা এবং ৪৬ জন বাংলাদেশি বসবাস করছেন। অন্যদিকে কাশ্মীর উপত্যকায় ৯১৯ জন রোহিঙ্গা এবং ৪৫৮ জন বাংলাদেশিকে চিহ্নিত করেছেন কর্মকর্তারা।

সীমান্তবর্তী ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জনসংখ্যার কথিত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে ১০ আগস্ট জম্মুতে প্রথম মাঠপর্যায়ের সফরের সময় এইচএলসিডিসি-র চারজন সদস্যের কাছে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ১১৭টি মামলা দায়ের

কর্মকর্তারা কমিটিকে জানিয়েছেন যে, জম্মু অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ১০১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭৯ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী জড়িত। কাশ্মীর উপত্যকায় ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪১ জন নারী ও চারজন পুরুষ জড়িত।

কর্মকর্তারা জানান, গত দুই বছরে রোহিঙ্গা বসতির সংখ্যা সামান্যই বেড়েছে, তবে সীমান্ত এলাকায় তাদের উপস্থিতি নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তারা দাবি করেন। একজন সূত্রের বরাতে বলা হয়, “সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং নজরদারি ও তদারকি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’’

কমিটি রোহিঙ্গা বসতিগুলোতে কাজ করা বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংস্থার সাথেও বৈঠক করেছে।

নিরাপত্তা ও মানব পাচারের আশঙ্কা প্রকাশ

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কয়েকজন রোহিঙ্গার সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার এবং মানব পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। এসব দাবি কমিটির কাছে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হলেও এটি পুরো রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে না।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রোহিঙ্গা বসতিগুলোর ভৌগোলিক বিন্যাসের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরে চিহ্নিত অধিকাংশ বসতি উপত্যকার চেয়ে জম্মু অঞ্চলেই বেশি অবস্থিত।

ওই কর্মকর্তার মতে, মিয়ানমার ছাড়ার পর যে অনেক রোহিঙ্গা প্রথমে হায়দ্রাবাদে গিয়েছিলেন, তারা পরবর্তীতে জম্মুতে চলে আসেন। বিশেষ করে ২০১২ এবং ২০১৭ সালের মধ্যে এদের একটি বড় অংশ এখানে আসেন।

কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে জম্মুর বসতিগুলো বিশেষ নজর কেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয় যে, কিছু রোহিঙ্গা নারীকে জম্মু থেকে কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিয়ে দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা দাবি করেন যে, তদন্তে জোরজবরদস্তি এবং যৌন নির্যাতনের মতো বেশ কিছু ঘটনা সামনে এসেছে।

উল্লেখ্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে জনসংখ্যার পরিবর্তন অধ্যয়নের জন্য ২৬ মে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এইচএলসিডিসি গঠন করে। কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। ভারতে বসবাসকারী অভিবাসীদের আইনি ও সময়ভিত্তিক আটক বা ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) জন্য একটি সুসংগঠিত ও স্থায়ী ব্যবস্থা তৈরির সুপারিশ করাও এই কমিটির কার্যপরিধির অন্তর্ভুক্ত।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *