অরুণাচল নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই বেইজিং যাচ্ছেন অজিত ডোভাল
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হলেও ভারত ও চীনের মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই চীনের রাজধানী বেইজিং সফরে যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে বসবেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতিই আলোচনার প্রধান বিষয় হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধের সমাধানে ২০০৩ সাল থেকে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা হয়ে আসছে। ডোভালের এবারের সফরে এ ধরনের ২৫তম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েনের মধ্যেই এ বৈঠক হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার নাম পরিবর্তন করে চীনের পক্ষ থেকে ‘চীনা নাম’ দেওয়ার ঘটনায় ভারত অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। সম্প্রতি অরুণাচলের ২৭টি এলাকার নাম ভারতীয় নামে মানচিত্রে যুক্ত করে দিল্লি। এর প্রতিবাদে চীন এসব নামকরণকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করে। পাল্টা জবাবে ভারত জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে এ বাস্তবতা বদলানো সম্ভব নয়।
অরুণাচল ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান যখন মুখোমুখি, তখনই ডোভালের বেইজিং সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত বরাবরই বলে আসছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরই দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের অগ্রগতি নির্ভর করছে।
শনিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সীমান্ত পরিস্থিতিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে তলানিতে ছিল। ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া কিছুটা গতি পায়।
এর ধারাবাহিকতায় প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি সিকিমের নাথু লা, হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ দিয়ে ভারত-চীন স্থল বাণিজ্যপথ পুনরায় চালু হয়েছে। তবে সীমান্ত বিরোধ এবং বিশেষ করে অরুণাচল নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থান সেই অগ্রগতিকে এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রেখেছে।
এদিকে আগামী মাসে ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চীন এই জোটের অন্যতম সদস্য এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর সফর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও ভারত ও চীন উভয় পক্ষই এ নিয়ে আশাবাদী। শি জিনপিং নয়াদিল্লিতে গেলে সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এর কয়েক সপ্তাহ আগে ডোভালের বেইজিং সফরকে তাই ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত বিরোধের পাশাপাশি অরুণাচল নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।