নাইক্ষ্যংছড়িতে মায়ের কোল থেকে ৪ মাসের শিশুকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ

নাইক্ষ্যংছড়িতে মায়ের কোল থেকে ৪ মাসের শিশুকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ

নাইক্ষ্যংছড়িতে মায়ের কোল থেকে ৪ মাসের শিশুকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মায়ের কোল থেকে কৌশলে চার মাস পাঁচ দিন বয়সী এক দুধের শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিশুটির নাম মারুফা জান্নাত মাহি। সে উপজেলার দক্ষিণ ছালামী পাড়ার মো. রশিদ উল্লাহ ও ইয়াছমিন আক্তার দম্পতির মেয়ে।

এ ঘটনায় শিশুটির মা ইয়াছমিন আক্তার (২৮) বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ইসলামপুর পুরাতন বাসস্টেশন এলাকার শফি উল্লাহ (৫০), তাঁর শাশুড়ি খালেদা বেগম (৪০), মো. আলম (৩০) ও তাঁর স্ত্রী তৃষা (২৫)।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট ইয়াছমিন আক্তার তাঁর স্বামী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা তাঁর ননদ খালেদা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে মো. আলম ও তাঁর স্ত্রী তৃষার সঙ্গেও তাদের পরিচয় হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শফি উল্লাহর বসতঘরে অবস্থানকালে তৃষা শিশুটিকে কোলে নেন। একপর্যায়ে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে পাশের ঘরে চলে যান তিনি।

কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু তৃষাকে আর ঘরে পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তৃষা ও তাঁর স্বামী আলম শিশুটিকে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শিশুটির পরিবারের দাবি, শফি উল্লাহ ও খালেদা বেগমের সঙ্গে আলম-তৃষা দম্পতির ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আর্থিক লেনদেন রয়েছে। ওই আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে চারজনের মধ্যে যোগসাজশ থাকতে পারে এবং তাদের সহযোগিতায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শিশুটিকে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা এর পেছনে প্রকৃত কারণ কী—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

রোববার দুপুরে শিশুটির মা ইয়াছমিন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে দ্রুত তাঁর সন্তানকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

তিনি বলেন, “আমার সন্তানকে দ্রুত উদ্ধার করে আমার কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। যারা আমার শিশুকে নিয়ে গেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। চার মাসের একটি দুধের শিশুকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিশুটির অবস্থান শনাক্ত ও তাকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং তাদের মধ্যে কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *