টেকনাফে এক কোটি টাকার ইয়াবাসহ তিনজন আটক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় দুই মিয়ানমারের নাগরিকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পরে বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্টেশন টেকনাফের একটি বিশেষ আভিযানিক দল নাইট্যংপাড়া এলাকায় একটি সন্দেহজনক বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে দুই মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বসতবাড়ির মালিক ও এক বাংলাদেশি মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ডের দাবি, অভিযানে মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ও ওষুধ পাচারসংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক মিয়ানমারের নাগরিকরা ইয়াবার চালান নিয়ে নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ওই বসতবাড়িতে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে।
এ ছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাড়ির মালিকের নেতৃত্বে ইয়াবাসহ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে বলে কোস্ট গার্ড দাবি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ মিয়ানমারে পাচারের একটি পরিকল্পিত চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধার করা আলামতের ভিত্তিতে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে জব্দ করা ২০ হাজার পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও অন্যান্য আলামতসহ আটক তিনজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ এবং সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় মাদক পাচার বন্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সীমান্তবর্তী টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। নাফ নদী ও সীমান্তপথ ব্যবহার করে মাদক পাচারের পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ পণ্য আদান-প্রদান ঠেকাতে কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।