পানছড়িতে ক্যাশলেস লেনদেন ও ‘বাংলা QR’ বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে প্রান্তিক পর্যায়ে ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসার এবং ‘এক দেশ এক কিউআর’ বা ‘বাংলা QR’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ ও সহজ লেনদেন ব্যবস্থার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পানছড়ি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র পানছড়ি উপ-শাখার উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি চট্টগ্রাম উত্তর অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এম কে এম মাসুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পূবালী ব্যাংক খাগড়াছড়ি শাখার ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল, পানছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী ও যুগ্ম সম্পাদক মো. তোফাজ্জল।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশে ক্যাশলেস লেনদেনের গুরুত্বও দ্রুত বাড়ছে। নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনের সুযোগ বাড়লে সাধারণ মানুষের সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাও বাড়বে।
প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে এ সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘বাংলা QR’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সভায় মত দেওয়া হয়। ‘এক দেশ এক কিউআর’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা একটি অভিন্ন কিউআর ব্যবস্থার সাহায্যে সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য একাধিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহারের জটিলতাও কমে আসবে।
বক্তারা বলেন, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য ক্যাশলেস লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল অর্থনীতির পরিধি আরও বাড়বে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে দ্রুত ও সহজে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণও সহজ হবে।

তবে প্রান্তিক পর্যায়ে ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় করতে শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয় বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। এ জন্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহারবিধি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং নিরাপদে মোবাইল ও ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা প্রয়োজন।
সভায় ব্যাংকের আধুনিক গ্রাহকসেবা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ক্যাশলেস লেনদেনের পদ্ধতি, ‘বাংলা QR’ ব্যবহারের সুবিধা এবং ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।
আয়োজকদের মতে, পানছড়ির মতো প্রান্তিক উপজেলায় ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বাজারের ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তা—সব শ্রেণির মানুষ ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার আওতায় এলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগও বাড়বে।
সভায় পানছড়ি বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, ৩ নম্বর পানছড়ি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মোবারক হোসেন, পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পানছড়ি পূবালী ব্যাংকের ডেপুটি জুনিয়র অফিসার অঞ্জন সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ক্যাশলেস লেনদেনের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো ও সচেতনতা বাড়ানো গেলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসার পাশাপাশি আর্থিক সেবার পরিধিও আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে ‘এক দেশ এক কিউআর’ ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও দেশের বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।