পাকুয়াখালী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে লংগদুতে পিসিসিপির মানববন্ধন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাঙামাটির লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালীতে সংঘটিত ৩৫ বাঙালি কাঠুরিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) লংগদু উপজেলা শাখা।
তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাকুয়াখালীতে ৩৫ বাঙালি কাঠুরিয়াকে হত্যার ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। এত বছর পরও হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়া নিহতদের পরিবার এবং স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। দীর্ঘদিন ধরে স্বজন হারানোর বেদনা ও বিচার পাওয়ার অপেক্ষা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বক্তারা বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে শুধু নিহতদের পরিবারই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয় না, বরং সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই অতীতের এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি।
পিসিসিপি নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাকুয়াখালী হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার অবসান ঘটিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মসূচিতে পিসিসিপি লংগদু উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. মামুনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক জাহিদ বিন খালিল, লংগদু সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. নাসির, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হৃদয়, সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম, মাইনীমুখ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় পাকুয়াখালী হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা দীর্ঘদিনেও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সরকারের কাছে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, পাকুয়াখালী হত্যাকাণ্ডের তিন দশক পূর্ণ হলেও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা শেষ হয়ে যায়নি। নিহতদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। অতীতের সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনের শাসন, সামাজিক আস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে পাকুয়াখালী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।