রাজস্থলীতে যুবসমাজের মাঝে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে রাঙামাটির রাজস্থলীতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে এবং জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল কাদির শুভ-এর নির্দেশনায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজস্থলী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও খেলোয়াড়দের মধ্যে এসব ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে রাজস্থলী সাব জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত ও রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউছুপ হাসান খেলোয়াড়দের হাতে ফুটবল জার্সিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন।
ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে স্থানীয় খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে রাজস্থলী সাব জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা এবং তাদের সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলায় এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউছুপ হাসান, রাজস্থলী থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদ হোসেন, ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা, গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে খেলাধুলার অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় রাজস্থলীর স্থানীয় খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং এখানকার প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীরা ভবিষ্যতে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।