পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মার্কিন কোম্পানির ড্রোন চুক্তি

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মার্কিন কোম্পানির ড্রোন চুক্তি

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মার্কিন কোম্পানির ড্রোন চুক্তি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে মার্কিন ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাস। একই সঙ্গে ড্রোন-সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক অর্ডারও পেয়েছে তারা। চুক্তির বিস্তারিত বা আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা না হলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এর আওতায় চালকবিহীন আকাশযান ব্যবস্থা নিয়ে কাজ হবে। এদিকে পাওয়ারাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে সমর্থিত একটি কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

গত বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন পাওয়ারাসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ। এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার পর এর আওতায় ড্রোন-সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক অর্ডারও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অবশ্য নিরাপত্তাজনিত সংবেদনশীলতার কথা উল্লেখ করে চুক্তির বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি ভেলিকোভিচ। তবে তিনি বলেন, চুক্তিটি চালকবিহীন আকাশযান ব্যবস্থা বা আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমসের আওতাভুক্ত। গোপনীয়তার কারণে অর্ডারটির আর্থিক মূল্যও প্রকাশ করেননি তিনি।

রয়টার্স বলছে, সামরিক ও শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক ড্রোন তৈরি করে পাওয়ারাস। পাওয়ারাস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে। আর কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে সমর্থিত।

দুই কোম্পানিই জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরের শুরুতে এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে তারা আশা করছে। মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথি অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প ‘আমেরিকান ভেঞ্চারস’ নামে একটি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে অরিয়াসে অংশীদারত্বের মালিক।

নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা দেয়া নথিতে বলা হয়েছে, একীভূত কোম্পানিটিতে আমেরিকান ভেঞ্চারসের ৯ দশমিক ৯ শতাংশ মালিকানা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে গত বুধবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ভেলিকোভিচের নেতৃত্বে পাওয়ারাসের একটি প্রতিনিধিদল প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা, উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে বিবৃতিতে এমওইউ সইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

রয়টার্স বলছে, এ চুক্তি নিয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

পাওয়ারাসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু ফক্স বলেন, পাকিস্তানের বেসরকারি প্রতিরক্ষা খাত এখনো ‘বিকাশমান, তবে পুরোপুরি পরিণত নয়’। ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভেলিকোভিচ বলেন, ‘এই চুক্তির লক্ষ্য হবে একটি যৌথ প্রযুক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রযুক্তির সঙ্গে পাকিস্তানের সেরা প্রযুক্তির সমন্বয় করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানেই প্রযুক্তি তৈরির সম্ভাব্য উপায় নিয়েও তারা কাজ করছে।

এদিকে পাওয়ারাসের অগ্রগতির সঙ্গে ট্রাম্পের দুই ছেলের সম্পৃক্ততার কোনো সম্পর্ক আছে—এমন দাবি নাকচ করেছেন ফক্স। তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই চুক্তি দেয়া হয়েছে এবং ট্রাম্পের দুই ছেলের ‘ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো সম্পৃক্ততা নেই’।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র সরাসরি নয়, বরং পরোক্ষভাবে একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে কোম্পানিতে অংশীদারত্ব রেখেছেন বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন। মুখপাত্র বলেন, ‘ডন পাওয়ারাসের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালন কার্যক্রমের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন। যুক্তরাষ্ট্রে বা বিদেশে কোনো চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তার কোনো ভূমিকা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই চুক্তির বিষয়ে তার আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না। এর আলোচনা, চুক্তি পাওয়া বা বাস্তবায়নের কোনো পর্যায়েই তিনি কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন না।’

রয়টার্স বলছে, এরিক ট্রাম্পের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ও প্রধান উপ-প্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, ‘এখানে স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই।’

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *