চট্টগ্রাম বন্দর দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রাখার দাবি স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির

চট্টগ্রাম বন্দর দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রাখার দাবি স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির

চট্টগ্রাম বন্দর দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রাখার দাবি স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি। সংগঠনটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি বাতিল করে চট্টগ্রাম বন্দর দেশীয় ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু চত্বরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক, সার্বভৌমত্ব আন্দোলনের মুখপাত্র শামীম রেজা, ইউনাইটেড ইয়াং ফোর্সের আহ্বায়ক শাকিল মিয়া, জনজোট বিপ্লবী মঞ্চের মুখপাত্র মোজাম্মেল মিয়াজিসহ সংগঠনগুলোর নেতারা।

সমাবেশে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়েও চট্টগ্রাম বন্দর দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অন্যতম কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হওয়ায় এর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জিয়াউল হক দাবি করেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বড় অংশ চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। তাই বন্দরের মতো কৌশলগত অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, কৃষি, জ্বালানি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। একইভাবে প্রয়োজন হলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকেও ভর্তুকির মাধ্যমে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা উচিত। তার দাবি, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেয়ে থাকে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের নিজস্ব গবেষণা অনুযায়ী নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনায় গেলে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৯২ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটির বার্ষিক নিট আয় প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ডলার হলেও ডিপি ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনায় তা কমে প্রায় ৫৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে।

তবে এসব আর্থিক হিসাব ও আশঙ্কা স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নিজস্ব গবেষণা ও বক্তব্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে ইউনাইটেড ইয়াং ফোর্সের আহ্বায়ক শাকিল মিয়া ডিপি ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় একাধিক ভারতীয় কর্মকর্তা রয়েছেন এবং এ বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

তিনি আরও বিভিন্ন দেশে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ভূরাজনৈতিক বিষয় তুলে ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা, এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে জনসমক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের কৌশলগত স্থাপনাগুলোর ব্যবস্থাপনায় জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *