সাজেকে অবরোধ ও থানচিতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, পিসিএনপি-পিসিসিপির নিন্দা

সাজেকে অবরোধ ও থানচিতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, পিসিএনপি-পিসিসিপির নিন্দা

সাজেকে অবরোধ ও থানচিতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, পিসিএনপি-পিসিসিপির নিন্দা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধ এবং বান্দরবানের থানচিতে বাস ও জিপ মালিক সমিতির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। পর্যটন ও পরিবহন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান ও মহাসচিব শাব্বির আহম্মেদ এবং পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতারা অভিযোগ করেন, রাঙামাটির সাজেকে ‘কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’র নামে ইউপিডিএফের (প্রসীত) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছদ্মপরিচয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন। তাঁদের দাবি, এ অবরোধের ফলে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল এবং জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের পথ সচল রাখার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।

থানচির পরিস্থিতি তুলে ধরে নেতারা বলেন, বান্দরবানের থানচিতে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) বিরুদ্ধে বাস ও জিপ মালিক সমিতির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দাবি ও হুমকির প্রতিবাদে মালিক সমিতি দুদিন ধরে থানচিগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। ডিম পাহাড় ও থানচি সদরের বিভিন্ন স্থানে ভারী অস্ত্রধারীদের অবস্থানের বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তাঁদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য উদ্বেগজনক।

যৌথ বিবৃতিতে পিসিএনপি ও পিসিসিপি চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাজেকে আটকে পড়া পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনর্বহাল, সাজেকের অবরোধ এবং থানচিতে চাঁদা দাবির ঘটনায় জড়িত অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা, পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার এবং পর্যটন ও পরিবহন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।

বিবৃতিতে বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমাসহ সাজেকে অবরোধে ইন্ধনদাতা হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে থানচিতে গণপরিবহন খাতে চাঁদা দাবির অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান নেতারা।

পিসিএনপি ও পিসিসিপির নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং পর্যটন ও পরিবহন খাতে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

তবে সাজেকে অবরোধ এবং থানচিতে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্য বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *