রাজস্থলীর পাঁচ পূজামণ্ডপে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

রাজস্থলীর পাঁচ পূজামণ্ডপে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

রাজস্থলীর পাঁচ পূজামণ্ডপে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উপজেলার পাঁচটি পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের সূচনা হয়। আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যে উপজেলার পাঁচটি পূজামণ্ডপে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। প্রতিমা, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপের সাজসজ্জায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। একই সঙ্গে পূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক জিকু কুমার দে জানান, রাজস্থলী উপজেলার পাঁচটি পূজামণ্ডপে এবারের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মণ্ডপগুলো হলো রাজস্থলী বাজারের শ্রী শ্রী হরি মন্দির, বাঙ্গালহালিয়া বাজার এলাকার কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির, কুতুরিয়াপাড়া শিব মন্দির, ছাগলখাইয়া সার্বজনীন কৃষ্ণ মন্দির এবং ম্রুংদ্রং পাড়ায় প্রশান্ত ধরের পারিবারিক পূজামণ্ডপ। তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এ চেতনায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বাঙ্গালহালিয়া কুতুরিয়াপাড়া শিব মন্দিরের পুরোহিত কাজল চক্রবর্তী জানান, প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা ঘোটকে চড়ে কৈলাস থেকে মর্ত্যে আসছেন এবং বিজয়া দশমীতে নৌকায় চড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয়া দশমীতে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় নৌ-র‍্যালির মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া বাঙ্গালহালিয়া শ্রী শ্রী দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের বাজার পুকুর এবং রাজস্থলী বাজার হরি মন্দিরের বাজার পুকুরেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

বাঙ্গালহালিয়া বাজার কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের সভাপতি বিশ্বনাথ চৌধুরী বলেন, তাঁদের পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পূজা উদযাপনের অপেক্ষা।

বাঙ্গালহালিয়া শিব মন্দিরের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পুলক চৌধুরী জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাজস্থলী উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইউছুফ হাসান বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলার পাঁচটি পূজামণ্ডপে পুলিশ এবং পুরুষ ও নারী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে একজন করে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকেরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

তিনি আরও জানান, উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিটি মন্দির সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রাজস্থলী সাব-জোনের অধিনায়ক মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে শুক্রবার থেকে সেনাসদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনা করবেন।

রাজস্থলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ হোসেন এবং চন্দ্রঘোনা থানার ওসি এস এম সাকের আহমেদ জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

রাজস্থলী উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাবেকুর নাহার জানান, উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে চারজন পুরুষ ও দুজন নারী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরাও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশের স্বেচ্ছাসেবক দল ও মোবাইল টিম মাঠে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *