কাপ্তাইয়ে হাতির আক্রমণে নিহতের পরিবার পেল ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

কাপ্তাইয়ে হাতির আক্রমণে নিহতের পরিবার পেল ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

কাপ্তাইয়ে হাতির আক্রমণে নিহতের পরিবার পেল ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বন্যহাতির আক্রমণে নিহত মংখ্যাইচিং মারমার পরিবারের হাতে সরকারি ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর রোববার (১৮ অক্টোবর) কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের হলরুম কিন্নরীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহতের স্ত্রী সানুই মারমার হাতে চেকটি তুলে দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ।

চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কর্ণফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বী সরকার, কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. এনামুল হক হাজারীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, বন্যহাতির আক্রমণে একজন মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নিহত মংখ্যাইচিং মারমা (৫০) স্থানীয়ভাবে ‘মাস্টার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কাপ্তাই উপজেলার ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়নের চিৎমরম বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ১২ এপ্রিল রাতে উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম চাকুয়া পাড়া এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজনকে হারানোর শোকের মধ্যেই পরিবারটি আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্ণফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বী সরকার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আবেদন করলে সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তবে বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হাতির ওপর কেউ যেন কোনো ধরনের আক্রমণ না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যহাতির আক্রমণে বসতবাড়ির ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা, কেউ আহত হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং কেউ নিহত হলে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, কোথাও বন্যহাতি দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগকে জানাতে হবে। সময়মতো তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, যা মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করবে।

চেক গ্রহণের সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের স্ত্রী সানুই মারমা বলেন, “আমার স্বামীকে হারিয়ে আমরা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। এই টাকা আমাদের শোক ভুলিয়ে দিতে পারবে না, তবে দুঃসময়ে কিছুটা সহায়তা হবে।”

বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্রের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ—দুটি বিষয়ই পার্বত্য অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, হাতির উপস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং বন বিভাগের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সমন্বয় জোরদার করা গেলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানোর উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *