টুপটুপ রিসোর্টে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তে লাগতে পারে ৪ সপ্তাহ

টুপটুপ রিসোর্টে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তে লাগতে পারে ৪ সপ্তাহ

টুপটুপ রিসোর্টে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তে লাগতে পারে ৪ সপ্তাহ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রিয়জনের মরদেহ বুঝে পেতে পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। রবিবার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ১০টি মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় নমুনাগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি জানান, শুধু মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করেই পরিচয় নিশ্চিত করা হবে না। নিহতদের বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়দের নমুনার সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে দেখা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ বলেন, পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো ঢাকার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের করা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা তিনি।

রিমন ঘোষ বলেন, মরদেহগুলো থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপনের পরিবারের ছয় সদস্য। রিপন জানান, তার পরিবারের চার সদস্য ইতোমধ্যে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে নমুনা দিয়েছেন। দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা শেষ করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহের অপেক্ষায় দুই দিন ধরে কক্সবাজারে রয়েছেন তার স্বামী ফয়সাল দেওয়ান। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে পরিচয় শনাক্তে প্রায় এক মাস লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা।

ফয়সাল দেওয়ান বলেন, ‘আমি জানি, আমার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই না, আর কোনো স্বামীকে এভাবে তার স্ত্রী হারাতে হোক, আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজতে হাসপাতালে ছুটতে হোক।’

গত ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের কমিটি কাজ করছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *