নানিয়ারচর লঞ্চঘাটে কাপ্তাই লেকের পাড় দখলের অভিযোগ, নৌযান ভেড়াতে ভোগান্তি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির নানিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কাপ্তাই লেকের পাড় দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ এবং ইট, গাছসহ বিভিন্ন সামগ্রী স্তূপ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার ও আশপাশের লোকজনের বিরুদ্ধে। এতে ঘাটে নৌযান ভেড়ানো, পণ্য ওঠানামা এবং যাত্রীদের নিরাপদে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও বোটচালকদের। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক যাত্রীদের ওঠানামায় ভোগান্তি বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লঞ্চঘাটের দুই পাশে থাকা সিঁড়ির মাঝখানের বিভিন্ন অংশে ঘর নির্মাণ ও নানা সামগ্রী স্তূপ করে রাখায় নৌযান ভেড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা থাকছে না। অথচ নানিয়ারচরসহ আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই ঘাট। তাই ঘাটের জায়গা সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং কোনো অবৈধ দখল বা প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা সরিয়ে নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বোটচালকদের ভাষ্য, দূরদূরান্তের পাহাড়ি এলাকা থেকে নৌকা ও বোটে করে সবজি, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা প্রতিদিন নানিয়ারচর লঞ্চঘাটে আসেন। কিন্তু ঘাটসংলগ্ন এলাকায় ঘর স্থাপন এবং ইট, গাছসহ বিভিন্ন সামগ্রী স্তূপ করে রাখায় নৌযান ভেড়ানোর জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে পণ্য ওঠানামায় অতিরিক্ত সময় লাগছে, বাড়ছে শ্রম ও পরিবহনসংক্রান্ত ভোগান্তি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নৌযান নিরাপদে ঘাটে ভেড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
ঘাটে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরাও নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের নৌযান থেকে নামিয়ে ঘাটে তোলা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে নৌযান ঘাটে পৌঁছানোর পরও নির্বিঘ্নে নামানোর পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে স্বজনদের। একই সঙ্গে ঘাটে পণ্য পরিবহন ও ওঠানামায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি কৃষিপণ্যের ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, নানিয়ারচর লঞ্চঘাট কেবল নৌযান থামানোর স্থান নয়; দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের যোগাযোগ, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ঘাটের জায়গা দখল বা প্রতিবন্ধকতার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়লে তা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি চাকমা জানান, লঞ্চঘাটের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নৌযান ভেড়ানোর ক্ষেত্রে সৃষ্ট দুর্ভোগ নিরসনের জন্য তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর পেয়ারা বেগম জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিকভাবে আলটিমেটাম দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে লঞ্চঘাটের পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ঘাটের জায়গা দখলমুক্ত করে নৌযান ভেড়ানো, কৃষিপণ্য ওঠানামা এবং যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।