সমঝোতার নামে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংলাপ, এ তো সমর্পণের মহড়া

সমঝোতার নামে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংলাপ, এ তো সমর্পণের মহড়া

সমঝোতার নামে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংলাপ, এ তো সমর্পণের মহড়া
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

মোঃ সাইফুল ইসলাম

টানা পাঁচ দিনের অবরোধে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের পর্যটন যখন অচল, তখন সংকট নিরসনের নামে গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টায় গঙ্গারাম বাজারে বসল এক জরুরি বৈঠক। টেবিলের একদিকে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির দুই সংসদ সদস্য, দুই জেলা প্রশাসক, দুই পুলিশ সুপার। অন্যদিকে কারা? প্রশ্নটা এখানেই শুরু, আর শেষ হয় আরও বড় একটা প্রশ্নে: রাষ্ট্র কি সন্ত্রাসীদের কাছে নতি স্বীকার করল?

টেবিলের ওপারে কারা ছিলেন?

সাধারণভাবে দেখলে বিষয়টা হয় সরকারের সাথে সাধারন অবরোধকারীর। তবে এর আড়ালে রয়েছে ভয়ঙ্কর সত্য। অবরোধকারী সেজে বৈঠকে অংশ নেন প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চুক্তিবিরোধী পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন ‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’র আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং ইউপিডিএফ সমর্থিত ‘ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি ও রাঙামাটির কাউখালীর ফটিকছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা। তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’। এই সংগঠনগুলোই সাজেক ইস্যুতে অবরোধ পালন করে আসছে।

সাধারণ অবরোধকারী পরিচয়ে সরকারকে ৫ দফা সংবলিত দাবী নামা পেশ করা  বাবু ধন চাকমা ইউপিডিএফ সদস্য ও ইউপিডিএফের সমর্থন নিয়ে আগামী স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী। তবে এই বাবু ধনের আরও কিছু পরিচয় রয়েছে, সব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার মাচালং বনবিটের অফিসে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বন বিভাগের দায়ের করা মামলার তালিকাভূক্ত আসামী। সাজেক থানার ওই মামলা নং- ১ (১২) ২৫।

আর নতুন জয় চাকমা ছিলেন ইউপিডিএফ সশস্ত্র গ্রুপের সাজেকের গঙ্গারাম এলাকার সাবেক সহকারী পোস্ট পরিচালক। আর ইউপিডিএফ নেতৃত্বাধীন পিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি জিকো চাকমারও নাম রয়েছে প্রতিনিধ দলের তালিকায়।

এছাড়া গতবছর খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়িতে সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনে বাধা দেয়ার মুলহোতাও রয়েছেন এই তালিকায়। সেসময় সাধারণ  নারী-শিশু ও শিক্ষার্থীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সেনা ক্যাম্প স্থাপন বন্ধ করার কারিগর ছিলেন ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র কমান্ডার, পোস্ট পরিচালক ও রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ২ নং ফটিকছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা।

আর বিভিন্ন সময়ে পাহাড়েিউপজাতি ধর্ষণের কথিত অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানির হোতা হিল উইমেন্স ফোডারেশন ও নারী সংঘের নেত্রী সাধনা দেবী চাকমারও উপস্থিতি ছিলো গতকাল। অথচ তাদের সকলের বিরুদ্ধেই পাহাড়ে বিভিন্ন সময়ে সংঘাত-দাঙ্গা লাগোনের প্রমাণ রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে।

কথা হলো; যাদের সঙ্গে প্রশাসন বসল, তারা সবাই পাহাড়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউপিডিএফের লোক। যদি সভা করতেই হয়, তবে তা হওয়ার কথা ছিল হেডম্যান-কার্বারীসহ জনগণের সঙ্গে, জনগনের দাবি-দাওয়াই থাকবে মূখ্য বিষয়। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কিসের বৈঠক? স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈঠকে আসা এসব প্রতিনিধি সাধারণ পাহাড়িদের মুখপাত্র নন, বরং তারা সরাসরি আঞ্চলিক সশস্ত্র দল ইউপিডিএফের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। সাধারণ পাহাড়ির প্রতিনিধিত্ব ছাড়া এই বৈঠকে ‘সমঝোতা’ হলে সেটা কার সঙ্গে কার সমঝোতা?

যে দাবি মেনে নেওয়া প্রশাসনের পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব

ইউপিডিএফ প্রতিনিধিরা বৈঠকে পাঁচ দফা দাবি তুলেছেন। এর অন্যতম হলো:

  • ২২ অক্টোবরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি, দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত।
  • উজোবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া।
  • আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ভার গ্রহণ।
  • জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া।
  • আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার, তল্লাশি বন্ধ।

বনবিভাগের জায়গা দখলকারী, বনবিট কার্যালয় ভাঙচুরের মামলা তুলে নিতে হবে? সেনাবাহিনী ও পর্যটকদের উপর হামলাকারীদের উল্টো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে? এ কেমন দাবি, আর এমন দাবি যে টেবিলে ওঠে, সেই টেবিলে রাষ্ট্র কেন বসে? মামলা প্রত্যাহার করানোর এই দর ক্ষাকষি কি আইনের শাসনকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ নয়?

২২ অক্টোবরের ঘটনা নিয়েও ইউপিডিএফ মিথ্যাচার করেছে। আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী ওইদিন ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয়দের জোর করে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ এবং পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। তাতে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। রাঙামাটির পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর তিন-চারজন ও পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ইউপিডিএফ এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বিতর্কের মীমাংসা ও তদন্ত  আদালতের, নাকি আলোচনার টেবিলের? অভিযুক্ত পক্ষ যেখানে নিজেই বিচারের শর্ত ঠিক করে দিচ্ছে, সেখানে আইনের ক্ষেত্র কোথায়?

বাস্তবতা হলো, সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সংঘাত মূলত আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার ও বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজির রুট দখলের লড়াই। দুই পক্ষই পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারী সংগঠন। জেএসএসকে সরানোর দাবিতে ইউপিডিএফ যেভাবে অনড়, নিজেরা সরে গিয়ে বা জেএসএসকে সরিয়ে সেখানে শান্তি ফেরানোর কোনো ইচ্ছাই তাদের নেই। তাহলে পাহাড়ে নিজেদের আধিপত্যের বিরোধে কেন সাজেক পর্যটন কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের অর্থনীতি জিম্মি থাকবে? এই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রাই।

মূল রহস্য আরও গভীর। ভারত সীমান্তবর্তী সাজেক পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের প্রধানতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাজেকের মতো বড় চাঁদার পয়েন্ট ও সীমান্ত সংলগ্ন এই পথ ইউপিডিএফের হাতছাড়া হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য অঞ্চলেও তারা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং অস্ত্র আসার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা ও অস্ত্র রুট দখলে রাখার ভয়েই ইউপিডিএফ জেএসএসকে সরানোর শর্ত জুড়ছে। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়: রাষ্ট্র কি অজান্তেই একটি অস্ত্র-চাঁদার সিন্ডিকেটের নিরাপত্তা-শর্ত নিয়ে আলোচনা করছে?

সেনাবাহিনী কোথায়?

বৈঠকে উপস্থিতদের তালিকায় ছিলেন দুই এমপি, দুই ডিসি ও দুই এসপি। পাহাড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি ছিলো না। বাবুধর-উষাতনদের দাবীর সূত্র ধরে জেএসএসকে দমন করা বা সরকারের পক্ষ হতে দুর্গম পাহাড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, সেই সেনাবাহিনীকে কেন এসব শান্তি প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হলো? সন্ত্রাসীদের চাপের মুখে? যে বাহিনীর সদস্যরা গুলির মুখে আহত হলেন, যে বাহিনী আটকা পড়া কয়েক হাজার পর্যটকদের নিজেদের জীবন বিপন্ন করে উদ্ধার করল, তাদের বাদ দিয়ে আলোচনা কি তাদের পিঠে ছুরি মারা নয়?

আল্টিমেটামের ধারাবাহিকতা: চাপ দিলেই মেলে সুবিধা?

এই আন্দোলনের শুরু থেকে ঘটনাক্রম দেখুন। মন্দিরাছড়ায় জেএসএস-ইউপিডিএফের গোলাগুলিতে ৮ বছরের কষ্মিতা চাকমা হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। জেএসএস ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা দখল করে, সমর্থকদের মারধর করে ও মোবাইল কেড়ে নেয়। এটিকে ইস্যু করে ৮ অক্টোবর উজোবাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে ইউপিডিএফ মদদপুষ্ট সংগঠনগুলো এবং জেএসএসকে সরাতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।

  • ১১ অক্টোবর: দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রথম দফায় সড়ক অবরোধ করে। সেনাবাহিনীর অনুরোধে আটকা পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে অবরোধ সাময়িক প্রত্যাহার, এবং আবার ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম।
  • ১৫ অক্টোবর: আবার অবরোধ। সমালোচনার মুখে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
  • ২২ অক্টোবর: পুনরায় অবরোধ, পর্যটকরা সাজেকে আটকা পড়েন। উজোবাজারে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের ফিরিয়ে আনার সময় ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা হামলা ও গুলিবর্ষণ করে, ৬-৭ জন আহত হন।

এই নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন দুই বার সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। পরে সাজেককে আবার মুক্ত ও নিরাপদ করতে খাগড়াছড়ি আসনের এমপি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়াসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদ্যোগ নেন।

প্রতিটি ধাপে ইউপিডিএফ চাপ বাড়িয়েছে, প্রশাসন ছাড় দিয়েছে। এখন বৈঠকের পর ফল কী? গতকালের (২৬ অক্টোবর) বৈঠকের শেষভাগে প্রশাসন ও সরকারি প্রতিনিধিরা ২২ অক্টোবর থেকে চলা তৃতীয় ধাপের অবরোধ প্রত্যাহার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ ৯ দিন সময় চান। ইউপিডিএফ প্রতিনিধিরা প্রথমে মাত্র ৩ দিন, পরে ৫ দিন সময় দিতে রাজি হয় এবং ৫ দিন অবরোধ স্থগিত রাখার আশ্বাস দেয়। অর্থাৎ রাষ্ট্র সময় চাইছে, আর সন্ত্রাসীরা সময় বরাদ্দ করছে। সময়ের মালিক কে, রাষ্ট্র না অবরোধকারী? কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি, বৈঠক অমীমাংসিতই থেকেছে।

এক বৈঠক, দুই কাহিনি

গতকাল দিনভর দুটি আলোচনার পর ‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ রাতে ফেসবুক লাইভ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরকারি প্রতিনিধি দল সশস্ত্র সন্তু গ্রুপকে সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে না পারায় সমঝোতা হয়নি এবং অবরোধ অব্যাহত থাকবে। উল্টো দিকে সংসদ সদস্যরা খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ, তারা অত্যন্ত আশাবাদী, ওনারাও শান্তি চান, তারাও চান। পাঁচটি দাবির চারটিতে প্রায় সমঝোতা হয়ে গেছে, একটি একটু বাকি। রাত হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আলোচনা চালানো হয়নি। তাদের আশা, এক-দুই দিনের মধ্যে আলোচনা করে সহসাই রাস্তা চালু হবে, আলোচনা চলমান।

সংসদ সদস্যরা বলছেন চারটি দাবিতে প্রায় সমঝোতা, অবরোধকারীরা বলছেন সমঝোতাই হয়নি। যে দুই পক্ষ একই বৈঠক নিয়ে দুই রকম কথা বলছে, তাদের একপক্ষ নিশ্চয়ই জনগণকে সত্য বলছে না। কে? আর যে ‘চারটি দাবি’তে প্রায় সমঝোতা, তার মধ্যে কি ক্ষতিপূরণও রয়েছে? জনগণকে জানানো হবে কবে?

অন্যদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হেডম্যান-কার্বারীদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। অর্থাৎ যে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার কথা, তাদের সঙ্গে বসে সমাধান মেলেনি, আর যাদের সঙ্গে বসার কথা নয়, তাদের সঙ্গে ‘প্রায় সমঝোতা’? এ কোন ধরনের প্রক্রিয়া?

সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা বিশ্বজুড়েই সমাধানের একটি প্রচলিত পথ। সরকারি প্রতিনিধিরা বলছেন, রাস্তা খুলে পর্যটক ও স্থানীয় অর্থনীতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। ইউপিডিএফের পক্ষ বলছে, তাদের অবরোধ শান্তিপূর্ণ, জেএসএসের সশস্ত্র উপস্থিতি অপসারণ ন্যায্য দাবি, এবং সেনা-পুলিশের ওপর গুলির অভিযোগ মিথ্যা, বরং নিরাপত্তা বাহিনীর উপরই দায় চাপাচ্ছে তারা।

সরকারকে সব বিষয় স্পষ্ট করতে হবে

সরকারকে জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে, তাদের প্রতিনিধিরা কাদের সঙ্গে, কোন কাঠামোয় আলোচনা করছেন, সেনাবাহিনীকে এই প্রক্রিয়া থেকে কেন দূরে রাখা হলো, বেড়াতে যাওয়া পর্যটক ও সেনাবহরে হামলা ও ক্সতিপূরণ কিভাবে কি আলোচনার বিষয় হতে পারে আর কোনো একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর শর্তে অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানো হবে কি না?

এই জবাব না আসা পর্যন্ত সাজেকের এই ‘সমঝোতা’ জনগণের চোখে সমাধান নয়, রাষ্ট্রের সমর্পণের মহড়া হিসেবেই বিবেচিত হবে।

শেষ কথা

সাজেকের সংকট আসলে একটি পরীক্ষা: রাষ্ট্র কি আইনের কাঠামো চলে, নাকি রাস্তা আটকানোর ক্ষমতার কাছে নত হয়? পাহাড়ের শান্তি দরকার, তবে তা অবশ্যই হতে হবে হেডম্যান-কার্বারী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, কোনো অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর শর্তে নয়। সরকারের উচিত এখনই স্পষ্ট করা কোন বিষয় আলোচনার অযোগ্য, বিশেষ করে পর্যটক ও সেনাবহরে হামলার ঘটনা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ। এসব নিয়ে কোনো দর ক্ষাকষি চলবে না। একই সঙ্গে ইউপিডিএফ ও জেএসএস, দুই পক্ষের অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সমান কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে এক পক্ষকে সরানোর আলোচনা আরেক পক্ষের হাতেই ক্ষমতার চাবি তুলে দেবে। সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে আস্থায় নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া গড়তে হবে। পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষতি যাদের সবচেয়ে বেশি, সেই সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি মানুষের জীবিকা রক্ষাই হওয়া উচিত যেকোনো সমঝোতার প্রথম শর্ত। রাষ্ট্র যদি আজ চাপের কাছে মাথা নত করে, তবে কাল এই নজির পাহাড়ের প্রতিটি সড়কে ও প্রতিটি দাবিতে পুনরাবৃত্ত হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *